ঝলকের ঝলকানিতে ঝলসে গেছে ২০০ কৃষকের ভাগ্য
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ মোরা খামু কি দেনা দিমু কি দিয়া মোরাতো পতের ফকির হইয়া গ্যালাম।
এমনই আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বল্লেন, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের কাজী শাহ গ্রামের কৃষক আঃ রব হাওলাদার। শুধু আঃ রব হাওলাদারই নয় এভাবেই কাঁদছে একই গ্রামের আরও ২০০ কৃষক। কিভাবে দেনাদারের পাওনা পরিশোধ করবে ? কিভাবে পুরোটা বছর খেয়ে পরে থাকবে ? তাদের ভাগ্য এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে। কৃষকদের অভিযোগ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ব্লক সুপার ভাইজারের গাফলিতেই আজকের এ অবস্থা। সরকারি ভাবে মাঠ পর্যবেক্ষনে আসার কথা থাকলেও তারা কেহই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা। আর এই ক্ষয় ক্ষতির দায়িত্ব নিতে হবে কৃষিকর্মকর্তারই বলে জানালেন সাধারন কৃষকরা।
অভিযোগে জানাগেছে, উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিযনের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির সদ্য ফলিত বোরো ধান শিষের শুরুতে (মাঝে) পচন ধরে। কৃষকরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধানের উপরের অংশ শুকিয়ে যায় হতাশাগ্রস্থ কৃষকরা কৃষিকর্মকর্তার কাছে কয়েকবার ধরনা দেয়ার পরেও কোন সমাধান পায়নি। ধান গাছ পুরো পুরি পচে শুকিয়ে যাবার পর কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের জানান, গাছে নেকমলাস (পচন) রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ততক্ষনে চাষকৃত ঝলক বিজের পুরো ধান মরে শেষ হয়ে যায়। বিক্ষিপ্ত কৃষকরা আরও অভিযোগ করে বলেন, আমরা এর আগে ঝলক ধান চাষ করেছি খুবি ভাল চাষ হয়েছে। তাই এবার বেশিরভাগ কৃষকই পূনরায় ঝলক ধান চাষ করে। এমতবস্থায় ধান গাছ থেকে ধানের থোর বের হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই ধান গাছের উপরের অংশ শুকিয়ে যায়।
মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান ফরাজি অভিযোগ করে বলেন, আমার একারই প্রায় ৩০০শ শতাংশ জমির ধান একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। আমি নিজেই কয়েকবার কৃষিকর্মকর্তার কাছে গিয়ে কোন সু-পরামর্শ পাই নাই। এর দায়দায়ীত্ব তাকেই বহন করতে হবে। আমাদের মাঠে এসে তার পর্যবেক্ষন করার কথা থাকলেও সে কখনও আমাদের গ্রামে আসেননি। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশী ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে সাধারন কৃষকদের। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতি পুরোনের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যপারে উজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। কৃষকরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এব্যপারে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহন করেছে।
এইচ এম সুমন উজিরপুর থেকে ফিরে॥ স্টাফ রিপোর্টার গৌরনদী ডট কম