আর্কাইভ

যুবদল নেতা শামীমের প্রতারনার কাহিনী

ও কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক আকতারুজ্জামান শামীম। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। বিধি বাম প্রতারক এই যুবদল নেতার শেষ রক্ষা হচ্ছে না। শেষমেষ তিনি ফেঁসে যেতে চলছেন। প্রতারনার অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল আদালতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ১০ নং ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী নান্না আকন দন্ডবিধি আইনের ৪০৬/৪২০ ধারায় এ মামলা দায়ের করেন। বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আলতাফ হোসাইন অভিযোগটি আমলে নিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এবাইরে শামীমের বিরুদ্ধে আরো বেশ ক’টি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভুক্তভোগীরা।

জনা গেছে, যুবদলের কর্মী নান্না আকনের কন্যা শাম্মী আক্তার (১১) এর হার্টের বাল্প নষ্ট হয়ে গেলে চিকিৎসার খরচ মেটাতে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের শরনাপন্ন হন। এখানকার সিনিয়রা নেতৃবৃন্দ ও ব্যাবসায়ীরা কম বেশী সহায়তাও করেন। এরমধ্যে বরিশাল অপসোনিন কোম্পানী শিশু কন্যার চিকিৎসায় ২০ হাজার টাকা সহায়তা করে। আকতারুজ্জামান শামীম যুবদল কর্মী নান্না আকনের বাসায় এসে জানায় তার জরুরী ভিত্তিতে কিছু টাকার দরকার। অপসোনিনের সহায়তার টাকা ধার চান। কন্যার অপারেশনের ঠিক সময়ে সেই টাকা পরিশোধ করার কথা বলেন। নান্না আকন সরল বিশ্বাসে অপসোনিন থেকে পাওয়া টাকা শামীমকে দিয়ে দেন। কিন্তু অপারেশনের নির্ধারিত সময়ে তার নিকট টাকা চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করে। এরপর হতাশ নান্না বিভিন্ন জনের নিকট থেকে ধার করে কন্যার চিকিৎসার খরচ চালান। অপারেশন শেষে পুনরায় শামীমের নিকট টাকা চাইলে দিচ্ছি দিচ্ছি বলে ওয়াদা করতে থাকে। এরফলে যুবদল নেতা শামীমের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিলেন নান্না আকন।

বরিশাল মহানগর বিএনপি নেতা অ্যাড. মহসিন মন্টু বলেন, আতারুজ্জামান শামীম দলের বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট থেকে নানা কায়দায় প্রতারনার মাধ্যমে অর্থ আতœসাৎ করেছে। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। দলের নেতা-কর্মীরা তার এহেন অন্যায় অনিয়মে ক্ষুদ্ধ। এদিকে যুবদল নেতা আকতারুজ্জামান শামীম বলেন, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক সুনাম বিনষ্টে এক মহল উঠে পড়ে লেগেছে। তারাই মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে ফাঁসানের চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি দাবী করেন দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে তাকে সাজানো মামলার আসামী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি ১০ নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা শাজাহান সিরাজকে সভাপতিতে বানানোর চাউর ঘটিয়ে কৌশলে চাঁদাবাজী করেছে আকতারুজ্জামান শামীম। তার নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। এ বিষয়টি প্রথমে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে অবহিত করে। এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সম্পাদক বিসিসির সাবেক মেয়র আহসান হাবীব কামালের নগরীর কালুশাহ সড়কের বাসভবনে গিয়ে শাজাহান ক্ষোভের বিস্ফোরন ঘটনায়। এতে শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে শাজাহানকে গালমন্দ করে। তাৎক্ষনিক দলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে শামীমকে মারধর করে। এরবাইরে চাকুরী দেয়ার কথা বলে কাশীপুরে ফার্মেসী ব্যাবসায়ী চাঁন মিয়ার নিকট থেকে ১ লাখ টাকা লুটে নেয় শামীম। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে কলেজ এভ্যিনিউর নিজ বাসভবন থেকে বর্তমানে গোড়া চাঁদ দাস রোডের ভাড়া বাসায় থাকছেন শামীম। মুলত যুবদলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সঙ্গে সখ্যতার কারনে দলের নেতা-কর্মীদের পদ-পদবী পাইয়ে দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা পকেটে পুরে নিয়েছেন যুবদল নেতা শামীম।

Back to top button