দেশকে ভাড়া খাটানোর আয়োজন
শাহ আহমেদ রেজাঃ ট্রানজিটের নামে ভারতকে করিডোর দেয়া নিয়ে রাখঢাক করা হলেও
বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতের যানবাহন চলাচল করছে। এ ব্যাপারে নতুন করে জানাজানি হয়েছে গত মাস এপ্রিলে। তখন আশুগঞ্জ থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের পালাটানায় যাওয়ার সময় ভারতের কয়েকটি ট্রেইলর মহাসড়কে আটকে গিয়েছিল। সাড়ে তিনশ’ টন পর্যন্ত ওজনের এবং ১৩০ চাকার এসব ট্রেইলর ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারের বেশি বেগে চলতে পারে না। ট্রেইলরগুলোর এই ধীরগতির জন্য বাংলাদেশের অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছিল না। তার ওপর কয়েকটি ট্রেইলর আটকে যাওয়ায় মহাসড়কে যান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখনই ভারতকে ট্রানজিট ও করিডোর দেয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়েছিল।
দেশপ্রেমিকদের বিরোধিতার কারণ নিয়ে আলোচনা এরই মধ্যে যথেষ্টই হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার নিয়েছে চাতুরিপূর্ণ কৌশল। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত শুনিয়ে এসেছেন, ভারতকে ট্রানজিট দেয়া হলে দেশে নাকি ‘টাকার পাহাড়’ তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থানের তথা চাকরির নাকি ‘বন্যা’ বইতে শুরু করবে! কখনও বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার, কখনও এমনকি ২০ হাজার কোটি টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। যুক্তিও তারা খাসাই দেখিয়েছেন। যেমন অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ যেহেতু একটি ‘ট্রানজিট কান্ট্রি’, সেহেতু দেশকে তারা ‘ভাড়া’ খাটাবেন! পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিও পিছিয়ে থাকেননি। বলেছেন, ট্রানজিট হবে ‘বিকল্প আয়-রোজগারের পথ’। সার্বভৌম জাতির জন্য অসম্মানজনক হলেও কথাটা তারা এমনভাবেই শুনিয়েছেন যেন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ‘ভাড়া’ খাটার জন্য! স্ববিরোধিতাও ছিল তাদের কথায়। যেমন অর্থমন্ত্রী একবার বলেছেন, শুল্কই যদি নেব তবে ট্রানজিট দিলাম কেন? সাংবাদিকদের পীড়াপীড়িতে তিনিই আবার বলেছেন, ভারত যেহেতু আমাদের সড়ক এবং রেল ও নৌপথ ব্যবহার করবে সেহেতু তাদের কাছ থেকে আমরা ‘কিছু একটা’ নেব। এই ‘কিছু একটা’কেই ফি বা ভাড়া হিসেবে চালিয়ে দিতে চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর পরপর ঝড়ের বেগে উড়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা ট্রানজিট দেয়ার বিনিময়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো ফি দাবি করতে পারি না। এই না পারার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, ভারতের কাছে ফি চাওয়াটা ‘অসভ্যতা’। বাংলাদেশ যদি অসভ্য ও অশিক্ষিত দেশ হতো, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা যদি অসভ্য ও অশিক্ষিত হতেন তাহলে ট্রানজিটের জন্য ফি চাওয়া যেত। উল্লেখ্য, জাতিকে জ্ঞান দেয়ারও অনেক আগে নিজের ক্ষমতার দাপটও দেখিয়ে রেখেছেন অর্থ উপদেষ্টা। তার নির্দেশে ভারতের ট্রানজিট পণ্যের শুল্ক আদায়ের জন্য এনবিআরের জারি করা এসআরওর কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে। এটা কার্যকর করা হয়েছিল গত বছরের ১ জুলাই থেকে। ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের দুটি জাহাজ সাতক্ষীরার শেখবাড়িয়া পৌঁছানোর পর এনবিআরের লোকজন ফি আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ভারতীয়রা অস্বীকৃতি জানালে এনবিআর জাহাজ দুটিকে আটক করেছিল। ঘটনাপ্রবাহের ঠিক সে পর্যায়েই নির্দেশ গিয়েছিল অর্থ উপদেষ্টার কাছ থেকে। ফলে রীতিমত ‘মুচলেকা’ দিয়ে ভারতীয় জাহাজ দুটিকে ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি এসআরওটিকেই স্থগিত করেছে এনবিআর। উল্লেখ্য, ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে এক বিলিয়ন ডলারের যে ঋণচুক্তি হয়েছে তারও যাবতীয় আয়োজন এ উপদেষ্টাই সেরেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুধু নয়, অর্থমন্ত্রীকেও সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেছিলেন তিনি। এতটাই দাপট একজন অনির্বাচিত উপদেষ্টার।
ট্রানজিট বা করিডোরের বিনিময়ে ভারত যে কিছুই দেবে না, সে কথাটাও জানা গিয়েছিল এর আগে-পরে। গত বছরের শেষদিকে এসে ভারত জানিয়েছিল, ট্রানজিট বা করিডোর যে নামেই দেয়া হোক না কেন, তার বিনিময়ে শুল্ক, রাজস্ব বা ভাড়ার আকারে বাংলাদেশকে কোনো টাকাই দেবে না দেশটি। সহজ কথায় এর অর্থ হচ্ছে, ভারতীয় যানবাহনকে ‘স্বদেশি’ মনে করতে হবে, ‘বিদেশি’ যানবাহন হিসেবে গণ্য করা চলবে না! আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টারাও ভারতের সুরেই তাল ধরেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, এসবের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে, ‘টাকার পাহাড়’ তৈরি হওয়ার বা কর্মসংস্থানের ‘বন্যা’ বয়ে যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না, সরকারের উদ্দেশ্য আসলে ভারতের স্বার্থ হাসিল করে দেয়া। কারণ, ট্রেন, বাস, ট্রাক বা জাহাজসহ সব যানবাহনেই ভারতীয়রা নিজেদের লোকজন নিয়ে আসবে। ফলে কুলি-মজদুর ধরনের কিছু কাজ ছাড়া কোনো কাজই পাবে না বাংলাদেশীরা। অর্থাত্ কখনও ফি বা অন্য কোনো নামে অর্থ আদায় করা হলেও সে আয়েরও প্রায় পুরোটাই পকেটে ভরে দেশে নিয়ে যাবে ভারতীয়রা। কথা শুধু এটুকুই নয়। সর্বশেষ এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ভারত কখনও টোল বা ফি দিলেও তার পরিমাণ একশ’ কোটি টাকার বেশি হবে না। অন্যদিকে ভারতীয় যানবাহনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করতেই বাংলাদেশকে পাঁচ বছরে ব্যয় করতে হবে ২৪ হাজার কোটি টাকা।
আপত্তির অন্য কিছু বিশেষ কারণ রয়েছে। একটি কারণ হলো, ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় রাখঢাক করে এসেছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছে গোপনে। জনগণকে জানানো দূরে থাকুক, সরকার এসব বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা করেনি। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নীতি ও মনোভাব মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। তাছাড়া পৃথিবীর কোনো ছোট দেশই প্রতিবেশী বড় দেশকে তার ভূমি, সড়ক ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে দেয় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি সব দিক থেকেই বিপজ্জনক। আশুগঞ্জ থেকে ত্রিপুরা যাওয়ার পথে ভারতীয় ট্রেইলরের আটকে যাওয়ার কথা শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে। আসলেও আমাদের সড়ক পথ খুব বেশি দীর্ঘ ও প্রশস্ত নয়। হাইওয়েগুলোও সব সময় থাকে জীর্ণদশায়। ভারতের ভারী যানবাহন চলাচল শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কগুলো ডেবে যাবে, অনেক সেতু ভেঙেও পড়বে। ফলে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়বে। চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থাও মনে রাখা দরকার। ধারণ ও পরিবহন ক্ষমতা খুব কম বলে শুধু বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনকারী জাহাজগুলোকে বন্দরে ও বহির্নোঙ্গরে দিনের পর দিন, এমনকি মাসেরও বেশি পর্যন্ত আটকে থাকতে হয়। কনটেইনার জটও সেখানে নিয়মিত বিষয়। ভারতকে যদি ওই বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে এখনকার চেয়ে বহুগুণ বেশি জাহাজ যাতায়াত করবে। ফলে জাহাজ ও কনটেইনার জটও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। চুক্তি থাকায় ভারত ক্ষয়ক্ষতি মানবে না। তখন ভারতীয় জাহাজকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে প্রথমে বাংলাদেশের জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে দেয়া হবে না। এতেও যখন সমস্যার সমাধান হবে না, তখন ভারত নিজেই বন্দর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিনিয়ে নিতে চাইবে। সড়ক পাহারা দেয়ার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে পণ্য আনা-নেয়া নিশ্চিত করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী ঢুকে পড়াটাও সময়ের ব্যাপারে পরিণত হবে।
খুবই গুরুত্বপূর্ণ অন্য একটি কারণ হলো, করিডোর দেয়া হলে কলকাতা থেকে আগরতলা পর্যন্ত সরাসরি রেল চলাচল শুরু হবে। তখন কলকাতা ও আগরতলার দূরত্ব ১৫০০ কিলোমিটারের স্থলে কমে হবে মাত্র ৩৫০ কিলোমিটার। আশুগঞ্জসহ বন্দর সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ভারত আখাউড়া-আগরতলা রেল লাইনের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় পণ্য পাঠাতে এবং ওই সব রাজ্য থেকে মূল ভূখণ্ডে পণ্য নিয়ে যেতে পারবে। ভারতের সেনাবাহিনীও যাতায়াত করবে। ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। কারণ ‘সেভেন সিস্টারস’ নামে পরিচিত রাজ্যগুলোয় বহু বছর ধরে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম চলছে। বাংলাদেশকে তখন ভারতের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হবে। বলা দরকার, স্বাধীনতার এই যুদ্ধ দমনে ভারত সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। আসাম, ত্রিপুরা, মণিপুর ও নাগাল্যান্ডসহ সাত রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীনতাকামীদের কর্তৃত্ব। এসব এলাকায় ভারতের অসামরিক প্রশাসন অচল হয়ে পড়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও সেখানে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতাকে ঘিরে। সমপ্রতি বিবিসিতে প্রচারিত এক সচিত্র রিপোর্টে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধ দমনের কর্মকাণ্ডে ভারতকে সহযোগিতা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। উলফা নেতা অরবিন্দ রাজখোয়াসহ আসামের অন্তত ৫০ স্বাধীনতাকামী নেতাকে সরকার ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। ফলে নাগা ও উলফার পাশাপাশি যুদ্ধরত মাওবাদীরাও বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। তারা এমনকি বাংলাদেশের ভেতরে এসেও সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালানোর হুমকি দিয়েছে। হুমকি অনুযায়ী কর্মকাণ্ড শুরু হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ বাংলাদেশে চলে আসবে। বাংলাদেশই তখন প্রধান রণাঙ্গনে পরিণত হবে।
সব মিলিয়েই সড়ক ও বন্দর ব্যবহারসহ ভারতকে ট্রানজিট বা করিডোর দেয়ার সিদ্ধান্ত সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। দেশপ্রেমিকরা সে কথাটাই প্রথম থেকে বলে এসেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী এই বিরোধিতাকে ‘জুজুর ভয়’ হিসেবে ব্যঙ্গ করেছেন, ভারতের জন্য বাংলাদেশের দরজা খুলে দেয়ার ঘোষণাও তিনি জোরেশারেই দিয়েছেন। অথচ বাণিজ্য, পানি আগ্রাসন, ছিটমহল ও সীমান্ত সমস্যা এবং সমুদ্রসীমাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে কোনো পর্যালোচনায় দেখা যাবে, ভারত শুধু নিতেই জানে, দিতে নয়। চুক্তি লঙ্ঘন করা এবং প্রতিটি বিষয়ে প্রতারণা ও চাতুরির আশ্রয় নেয়ার ব্যাপারেও ভারতের কোনো জুড়ি নেই। এ জন্যই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এসেছে। বড়কথা, বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতীয়দের নীতিতে পরিবর্তন ঘটনোরও কোনো সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপস তো করেছেই, ভারতের কাছে মাথাও নুইয়ে ফেলেছে। ইতিমধ্যে ভারতীয় যানবাহনের চলাচল শুরু হয়ে গেছে। এসব যানবাহনে ঠিক কোনো ধরনের পণ্য আনা-নেয়া করা হচ্ছে, পণ্যের আড়ালে ভারত সামরিক সরঞ্জাম এবং সেনা সদস্যদের পাঠাচ্ছে কি না তার হদিস রাখারও সুযোগ পাচ্ছে না সরকার। তেমন কোনো শর্তই রাখা হয়নি এ-সংক্রান্ত চুক্তিতে। স্বাধীনতাকামী নেতাদের গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেয়াসহ নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে চলমান স্বাধীনতা সংগ্রামকে ধ্বংস করার কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বলেই অন্য কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে ভারতের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জড়িত হওয়ার পরিণতি বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। এ জন্যও সরকারের উচিত ট্রানজিট নামের আড়ালে ভারতকে করিডোর দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা।