আর্কাইভ

প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে একটি পরিবারের লিখিত অভিযোগ

বিজয়পুর মহল্লার মোঃ শাহ আলম ভুইয়ার পুত্র মোঃ রাসেদুজ্জামান ঝিলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, ১৯৭৪ সনে আমার বাবা শাহে আলম ভুইয়া জে.এল নং ৭৩, খতিয়ান নং-১০০, দাগ নং-২৪২/২৪৩ উত্তর বিজয়পুর মৌজায় যথাক্রমে ২৮+৩৭ =৬৫ শতক ভূমি পৈতৃক এবং ক্রয় সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া পুকুর কেটে বসত বাড়ি নির্মান করে বসবাস করিয়া আসিতেছেন। উল্লেখ্য যে, ২৪২ দাগের ২০ শতাংশ জমির ওপর পুকুর খনন করে তাহা থেকে উত্তোলনকৃত মাটি দিয়ে বাকি ২৪৩ দাগের ৩৭ এবং ২৪২ দাগের ৮ মোট ৪৫ শতাংশ জমি ভরাট করে পুকুরের দক্ষিন পার্শ্বে ২৪২ নং দাগের ওপর অধা পাকা আধা কাচাঁ তিনখানা বসত ঘর পাকা বাথরুম টয়লেট এবং ভাড়াটিয়াদের টয়লেট নির্মান করিয়া বসবাস করিতেছেন। পুকুরের দক্ষিন পাড়ে পাকা ঘাটলা নির্মান করিয়া, পুকুরের চারিপাশে মেহগোনি, রেন্ট্রি, সুপারি, নারিকেল ও অন্যান্ন ফলজ গাছ রোপন করেন। ১৯৮০ সনে আমার দাদি মৃত্যুবরন করিলে ২৪২ নং দাগের ওপর পুকুরের পূর্ব  পাশে কবরস্থান নির্মান করিয়া আমাদের দুই ভাই ও এক বোনকে নিয়া আমার বাবা শাহ আলম ভুইয়া পরম সুখে অধ্যবদি বসবাস করিতেছেন। এরই মধ্যে বিগত ১৯৮৫ সনের ৮ জুলাই একটি চিঠির মাধ্যমে আমার বাবা জানিতে পারেন যে, তাহার পুকুরের পুর্ব পাশে আলাউদ্দিন শরিফ গংদের ১৯৮ নং দাগের ৪০ শতক এবং তাহার বাড়ির ২৪২ নং দাগের ২৮ শতক ও ২৪৩ নং দাগের ১২ শতক ভূমি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহন করা হয়েছে। যাহার মূল্য ধরা হয় মাত্র ৩৮ হাজার ৮’শ টাকা। উক্ত টাকা আমার বাবা উত্তলন করেননি। অতঃপর আমার বাবা তৎকালীন স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এবং তৎকালীন ভূমি মন্ত্রি বাবু সুনিল কুমার গুপ্তকে বিষয়টি অবহিত করেন। অতঃপর আমার বাবা তাহার শেষ সম্বল বাড়ি ঘর পুকুর এবং মায়ের কবরস্থান কেরে নিয়ে ভূমিহীন না করার জন্য উল্লেখিত কর্ত ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে ভূমি মন্ত্রী মহদয়, স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা চেয়ারম্যান বিষয়টি আমলে নিয়ে সরজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে শাহে আলম ভূইয়ার ২৪২ ও ২৪৩ নং দাগের ৪০ শতক ভূমি বাদ দিয়ে টিএন্ডটি অফিস নির্মানের জন্য ১৯৮ দাগের উত্তর ও দক্ষিন পাশের খালি জায়গা বা নাল জমি অধিগ্রহনের জন্য সুপারিশ করেন।

কিন্তু অজ্ঞাত কারন বসত ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা বিষয়টি আমলে নেননি। অতঃপর আমার বাবা উপায়ন্তর না পেয়ে তাহার শেষ সম্বল মাথা গোঁজার ঠাই ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাস করিবার বাড়ি ঘর পুকুর এবং মায়ের কবরস্থান রক্ষা করিবার জন্য সু-বিচারের আশায় ১৯৯০ সনের ১৮ এপ্রিল আদালতের দারস্ত হন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে স্বাক্ষী প্রমানের মাধ্যমে নিশ্চিত হইয়া বিরোধীয় এল,এ কেস/ ভূমি অধিগ্রহনকে বে-আইনি ও বিধি বহিঃভূত বলিয়া ঘোষনা করেন এবং শাহে আলম ভূইয়ার শান্তি পুর্ন ভোগ দখলের ওপর কোন প্রকার হস্তক্ষেপ না করিবার জন্য বাদির পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

অতঃপর টি.এন্ড.টি কর্তৃপক্ষ ১৯৮ নং দাগের ৪০ শতক ভূমির ওপর দ্বিতল ভবন ও দুই খানা টাওয়ার নির্মান করেন। কিন্তু স্থানীয় কিছু স্বর্থানেষী টি.এন্ড.টি ষ্টাফ, কর্মকর্তা চাকুরীর জীবনে ২৪২ ও ২৪৩ নং দাগের ৪০ শতকের মূল্যবান সম্পত্তি ভোগ করার মানসিকতায় আমাদেরকে ভূমিহীন করার পায়তারা শুরু করেন।

স্থানীয় টি.এন্ড.টি অফিসের ভবন নির্মানসহ তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবহৃত জমি ছাড়াও তাদের অধিনে আরও একওয়ার ভুক্ত প্রায় ৩০ শতক জমি পরিত্যক্ত রয়েছে। এর পরেও কেন? কি প্রয়োজনে? অন্যের বসত ভিটা অধিগ্রহনের পায়তারা চালাচ্ছে। তা আমাদের বোধ গম্য নয়। টি.এন্ড.টির একটি স্বার্থানেষী মহল ব্যক্তি স্বার্থে আমাদের নামে হাল জরিপে রেকর্ড কৃত সম্পত্তি নতুন করে একওয়ারের চেষ্টায় লিপ্ত হয়।

লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, আমার বাবাকে দুর্বল পাইয়া মিথ্যা ও প্রতারনা মুলক মামলা দায়ের করে ও স্থানীয় থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে আমাদেরকে একের পর এক হয়রানি করছে। আমাদের দু ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে চলচি বছরের গত ১৩ জুন সকাল ১১ ঘটিকায় টি.এন্ড.টি স্টাফ জনৈক আবুল নামের ব্যক্তি বাড়ির মধ্যে ঢুকিয়া আমার অসুস্থ্য বাবাকে বিভিন্ন রকম অসালিন মন্তব্য করে হুমকি দেয় যে, সরকারের সাথে মামলা করো ? আমরা সরকারি লোক ভালো চাও তো জমি ছেরে দাও, নতুবা দেখিয়া নেয়া হবে।

ইতিপুর্বে আরও দু’বার আমাদের বিরুদ্ধে টি.এন্ড.টি অফিস কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছিল যাহা সত্যতা না থাকায় বিজ্ঞ আদালত মামলা গুলো খারিজ করিয়া দেন। ইহাতে আমরা অহেতুক হয়রানির স্বীকার হইতেছি। বিজ্ঞ আদালতে দারাইয়া টি.এন্ড.টি স্টাফ (মামলা পরিচালনাকারী) আমাদের বিরুদ্ধে সম্পত্তির দখলে নাই বলিয়া মিথ্যা স্বাক্ষ্য প্রদান করে ও মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। এবং সত্য গোপন করিয়া আদালতের রায়কে নিজের পক্ষে নেয়ার অপচেষ্টা করে ও বিজ্ঞ বিচারককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করিতেছে। টি.এন্ড.টির এহেন অপকর্মে আমরা ভীত সতস্ত্র। সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষ দলিলপত্র যাচাই বাছাই করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, মাননীয় ভূমি মন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

-প্রেসক্লাব/২১/জুন/২০১১

Back to top button