যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে আটকে রেখে নির্যাতন – দুইদিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, গৌরনদী॥ যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনে দুইদিন আটকে রেখে গৃহবধূর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। এতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি পাষন্ড স্বামী ও পরিবারের লোকজন। তারা গৃহবধূ ও তার তিন মাসের শিশু সন্তানকে বসত ঘরের একটি কক্ষে দুইদিন অনাহারে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দুইদিন পর বুধবার সন্ধ্যায় গুরুতর জখম অবস্থায় গৃহবধূ রোকসনা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামে। এ ব্যাপারে নির্যাতিত গৃহবধূর মা রাবেয়া বেগম বাদি হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহারে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল আজিজ মিয়ার কন্যা বাগধা হাইস্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্রী রোকসনা খানমকে (১৯) ২০০৪ সালে পারিবারিক ভাবে একই গ্রামের ফিরোজ মিয়ার পুত্র জুয়েল মিয়ার (২৫) সাথে বিয়ে দেয়া হয়।
নির্যাতিতা গৃহবধূর মা রাবেয়া বেগম অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় তার দিনমজুর স্বামী আব্দুল আজিজ ভিটেমাটি বিক্রি করে যৌতুক হিসেবে একটি ভ্যান, দুই বান টিন ও নগদ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এরইমধ্যে তাদের ঘরে ২টি সন্তান সাদিয়া (১৯ মাস) ও নাদিয়া (৩ মাস) জন্মগ্রহন করে। রোকসনার স্বামী জুয়েল মাদকাসক্ত হয়ে সম্প্রতি ভ্যান গাড়িটি বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে বাবার বাড়ি থেকে পূর্ণরায় টাকা আনার জন্য যৌতুকলোভী স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনে প্রায়ই রোকসনার ওপর শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন চালাতো।
গত ১০ মে রোকসনার স্বামী, শশুর ও শ্বাশুড়ী নসিমন ক্রয়ের কথা বলে তার বাবার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা আনার জন্য রোকসনার ওপর চাঁপ প্রয়োগ করে। টাকা আনতে অপরাগতা প্রকাশ করায় স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনে রোকসনার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এতে সে রক্তাক্ত জখম হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে। নির্যাতনকারীরা গৃহবধূকে চিকিৎসা না দিয়ে বসত ঘরের একটি কক্ষে তিন মাসের শিশুসহ অনাহারে ২দিন তালাবদ্ধ করে রাখে। বুধবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ রক্তাক্ত জখম অবস্থায় রোকসনাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নির্যাতিত গৃহবধূ রোকসনার মা রাবেয়া বেগম বাদি হয়ে রোকসনার স্বামী জুয়েল মিয়া, শশুর ফিরোজ মিয়া ও শ্বাশুড়ি অজিফা বেগমকে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার এস.আই মোঃ নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের জোড় প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে।