আর্কাইভ
ইভটিজিংয়ের বলি মেধাবী স্কুল ছাত্রী রিমা – চারদিনেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ

পুলিশ জানায়, পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার পূর্ব কাত্তিকপাশা গ্রামের দিনমজুর আলাউদ্দিন মৃধার কন্যা রিমা আক্তার (১৩)। আগৈলঝাড়া উপজেলার ছবিখারপাড় গ্রামের মামা শরিয়াতুর রহমান জীবন তার স্ব-পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকার সুবাধে রিমা ও তার বড়ভাই আবু হানিফ মামা বাড়িতেই বসবাস করতো। রিমা আগৈলঝাড়া উপজেলার জোবারপাড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী।
নিহত রিমার মামা শরিয়াতুর রহমান জীবন অভিযোগ করেন, রিমা স্কুলে আসা যাওয়ার পথে একই গ্রামের বখাটে শুভ্র গাইন (১৮), কমল বিশ্বাস (১৯) ও পরেশ (২২) প্রায়ই রিমাকে উত্যক্ত করত। রিমা মোবাইল ফোনে বিষয়টি তাকে জানানোর পর তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বখাটেদের একাধিকবার শ্বাসিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটেরা রিমার স্কুলে আসা যাওয়ার পথিমধ্যে তাকে (রিমাকে) অশ্লিল কথাবার্তাসহ মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে একাধিকবার রিমার ছবি তোলে। এছাড়াও বখাটেরা তার ঘরের চালায় প্রায় রাতেই ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে শালিস বৈঠকও হয়েছিলো। স্থানীয় মুদি দোকানাদার রুহুল আমিন জানান, রিমা তার দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সম্প্রতি স্থানীয় বখাটে কমল বাড়ৈ মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে তার (রিমার) ছবি তোলে।
রিমার ভাই আবু হানিফ জানান, ঘটনার দিন গত ১০ মে (সোমবার) সকাল ১০ টার দিকে রিমা বাড়ির সামনের খালপাড়ে গোসল করতে যায়। গোসল করে কাপর পরিবর্তনের সময় বখাটে শুভ্র গাইন ও তার সহযোগী পরেশ রিমার ছবি তোলে। বিষয়টি রিমা তাকে (হানিফকে) জানালে সে দুপুরে বখাটে শুভ্র গাইন ও তার সহযোগী পরেশকে গালমন্দ করে শ্বাশিয়ে দেয়। ওইদিন সন্ধায়ই তিনি (হানিফ) নিরজন একাকি বাড়িতে ফিরে খাটের ওপরে গলায় ওড়রা পেচানো হাটু ভাংগা অবস্থায় রিমার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। তিনি আরো জানান, খাটের বিছানার উপর তার ছোট বোন রিমার হাতের চুরি, কানের দুল, মাথার ব্যান্ড ও চাপা (চুলের ব্যবহৃত) ভাংগার অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরাছিল। এছাড়াও ঘরের যে আড়ার সাথে রিমার লাশ ঝুলানো ছিল সে আড়া থেকে খাটের উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুট। যেখানে রিমা দাড়ালেও ঝুলতে পারেনা। হানিফের অভিযোগ আরো জানা গেছে, তার বোন রিমাকে একাকি নিরজন বাড়িতে পেয়ে বখাটেরা ধর্ষণের পর শ্বাশরুদ্ধ করে। মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে রিমার লাশ ঘরের নিচু আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর থেকে বখাটেরা পলাতক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত শুভ্র, কমল ও পরেশের সাথে একাধিকবার তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সকলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
রিমার মামা শরিয়াতুর রহমান জীবন, মামি দীপা রহমান ও বড় ভাই আবু হানিফ অভিযোগ করেন, রিমাকে বখাটেরা ধর্ষন করে হত্যা করে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। রিমার মামা শরিয়াতুর রহমান জীবন অরো অভিযোগ করেন, তিনি খবর পেয়ে স্ব-পরিবারে ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে মামলা করতে চাইলে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি।
মামলা না নেয়ার অভিযোগ প্রসংঙ্গে রিমার অপমৃত্যু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস. আই মাহবুব হোসেন বলেন, কেউ মামলা করতে আসেননি। তাছাড়া হত্যার কারন কি বা ধর্ষন হয়েছে কি না সে বিষয়ে আমরা ময়না তদন্তে জানতে চেয়েছি। রিপোর্ট আসলেই তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।