বখাটেদের উত্যক্ত’র কারনে গৃহবধূর আত্মহত্যার হুমকি
গৃহবধূ পুতুল বেগমের অভিযোগে জানা গেছে, ওই গ্রামের আইউব আলী বাহাদুরের স্বামী পরিত্যক্তা কন্যা তিন সন্তানের জননী সোনিয়া আক্তার পুতুল (৩০)। ঢাকার একটি গামেন্টেসে চাকুরিরত অবস্থায় তার সাথে পরিচয় হয় একই উপজেলার রাজিহার গ্রামের ফজলে করিম পাইকের পুত্র সেলিম পাইকের (৩৯) সাথে। সেলিমের প্রথম স্ত্রী তাসলিমা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন বিধায় সামাজিক পর্যায়ে গত ৮ মাস পূর্বে পুতুল ও সেলিমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রতারক সেলিম কৌশলে পুতুলের গচ্ছিত আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এর কিছুদিন পর পুতুল জানতে পারেন তার স্বামী সেলিম উজিরপুরের খ্রীষ্টসম্প্রদায়ের জ্যোতি নামের আরেকজনকে বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। পুতুল আরো অভিযোগ করেন, জ্যোতিকে নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য তার স্বামী সেলিম পাইক তাকে নানাধরনের ভয়ভীতিসহ জীবন নাশের হুমকি দেয়। অসহায় পুতুল সু-বিচারের জন্য স্থানীয়দের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ব্যর্থ হন। উপায়অন্তুর না পেয়ে তিনি গত ৬ এপ্রিল আগৈলঝাড়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। এতে প্রতারক স্বামী সেলিম পাইক আরো ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে গত ২৩ এপ্রিল পুতুল বেগম বাদি হয়ে বরিশাল আদালতে স্বামী সেলিম পাইকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে আগৈলঝাড়া থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
পুতুল বেগমের অভিযোগে প্রকাশ, তার প্রতারক স্বামী সেলিমের ভাড়াটিয়া স্থানীয় আনিচ ভাট্টিসহ তার ৮/১০ জন সহযোগী তাকে (পুতুল) ও তার কন্যা অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদাউচ পপিকে বিভিন্ন ধরনের উত্যক্তসহ আপত্তিকর প্রস্তাব দেয়। বখাটেদের অব্যাহত উত্যক্তর কারনে গত ১০ মে স্কুল ছাত্রী পপিকে খুলনাস্থ তার ফুফুর বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। এতে বখাটেরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পুতুল বেগমকে নানাধরনের উত্যক্তসহ কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছে।
পুতুল আরো অভিযোগ করেন, তার প্রতারক স্বামী সেলিম পাইক মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, অর্থের বিনিময়ে তিনি থানা পুলিশকে তার পক্ষে রেখেছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে (পুতুল) ও তার কন্যা পপিকে নষ্ট করা হবে বলেও হুমকি দেয়। প্রতারক স্বামী ও বখাটেদের অব্যাহত হুমকি এবং উত্যক্তর কারনে অসহায় গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার পপি গতকাল রবিবার দুপুরে নিজ এলাকা আগৈলঝাড়া থেকে পালিয়ে গৌরনদী প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রতারক স্বামী ও তার ভাড়াটিয়া লোকজনদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া না হলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। সঠিক বিচারের আশায় তিনি প্রসাশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।