শিবপুরে জমি দখল করে মৎস্য ঘের তৈরী অস্ত্রের মহড়া ॥ গ্রাম ছাড়ছে সংখ্যালঘুরা
উজিরপুর উপজেলা সদর থেকে ৩৫কিঃমিঃ পশ্চিমে সাতলা ইউনিয়নের নির্জন শিবপুর গ্রামে এক মানুষরুপি দানব আইনের তোয়াক্কা না করে সর্বহারা গ্র“পের স্বশস্ত্র ক্যাডার মোতায়ন করে সংখ্যালঘু নিরিহ দিনমজুরদের জমি দখল করে মৎস্য ঘের তৈরী করেছে। ক্যাডারদের হুংকারে গ্রাম ছাড়ছে সংখ্যালঘুর পরিবারের লোকজন।
অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার চর মাঠিভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হক মিয়ার পুত্র আমিনুল ইসলাম সাগর চারদলীয় জোটসরকারের ছত্রছায়ায় থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতারণার ব্যবসা করে। অল্পদিনে সে বিশাল অর্থবিত্তের মালিক বনে যান। তিনি রাজাপুর বাজারে পোল্ট্রি ফিড বিক্রয়ের নামে ঘাটি গেরে স্থানীয় সুবিধাভোগী দালালদের সহায়তায় কিছুদিন পূর্বে শিবপুর এলাকায় নামেমাত্র জমি ক্রয় করে। ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় শুকুমার রায়, ধামু রায়, শ্যামল বাড়ৈ, নুরুল হক, বিমলা রায়, শাহিন, নিরোদ বাড়ৈ সহ দিনমজুরদের জমির পাকাধান কেটে নেয়। একইসাথে তার ক্রয়কৃত জমি লাগোয়া প্রায় ১৫একর ফসলীজমি দখল করে “অর্গানিক এগ্রো লিঃ” সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে মৎস্য ঘের তৈরী শুরু করে। অসহায় ভুক্তভোগীরা এরপ্রতিবাদে ঝাড়– মিছিল বেড়
করে। এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম সাগরসহ তার অনুসারিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও থানা পুলিশের সাথে সক্ষতা থাকায় অসহায়দের বিচার ঝুলে থাকে। উল্টো নিরিহ লোকদের ঘায়েল করতে সাগরের কথিত ফার্মের ম্যানেজার রিপনকে বাদী করে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে উপজেলার জনপ্রিয় যুবলীগ নেতা লিটন মিয়াসহ একাধিক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সূত্রে আরো জানা গেছে, বর্তমান উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এম.এ আজিজের সাথে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরেই সাগর সবঅপকর্ম করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পূর্ব পরিচয়ের বিষয় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি। মাসখানেক পূর্বে এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে কিছুদিন বিরতি দিয়ে গত ২দিন যাবৎ সশস্ত্র সর্বহারা গ্র“পের লোকজন মোতায়ন করে সংখ্যালঘুদের ভয়ভিতি দেখিয়ে ঘেরকাটা শুরু করে। ক্যাডাদের হুংকারে ওই এলাকার একাধিক পরিবার কুমারি মেয়ে ও গৃহবধুদের অন্যত্র নিরাপদ স্থানে রেখে আসেন। ঘেরপাড়ে টংঘরে শ্রমিক নামধারী তরিকুল ইসলাম তরিক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি ওই ওয়ার্ডের (৩নং) ছাত্রলীগ সভাপতি বলে দাবি করলেও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা তা অস্বীকার করেন। সরেজমিন টংঘরে মোতায়েনকৃত অর্ধশতাধিক লোকজন দেখা গেলেও সাংবাদিকদের আগমন আজ করতে পেরে বিভিন্ন পন্থায় তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ভুক্তভোগীরা জুলুম বাজের হাত থেকে বাঁচতে সাবেক চীপ হুইফ আবুল হাসানাত আব্দুল¬াহ্ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির দারস্থ হলে সাতলা ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ফজলুল হক হাওলাদারের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় সমাধানের সিদ্ধান্ত দিলেও অজ্ঞাত কারনে তা ঝুলে থাকে। স্থানীয় শিক্ষক, ডাক্তার, জনপ্রতিনিধি এঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। এবিষয়ে মোবাইলফোনে আমিনুল ইসলাম সাগরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যা করছি তার বৈধতা আছে।