দিনমজুর মজিদের সিএ হওয়ার স্বপ্ন
অভাব অনটনের ছয় সদস্যর সংসারের বড় পুত্র সন্তান মজিদ হাওলাদার। অভাবের সংসারে পিতার সাথে দিনমজুরের কাজ করে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে মজিদ। এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে সে পাস করে। কৃতিত্ব অর্জন করার পরেও টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি হওয়া তার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নিকটতম এক আতœীয় সহযোগিতায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেনীতে বানিজ্য বিভাগে ভর্তি হয় মজিদ। গত ৬ জুলাই কলেজ কর্তৃপক্ষ একাদশ শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা উপকরন বিতরন উপলক্ষে কলেজ মিলায়তনে অনুষ্ঠানের আয়াজন করেন। কলেজের অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্রামীণ সাংবাদিক সংগঠনের বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া। অনুষ্ঠানের শেষে শিক্ষা উপকরন বিতরনের সময় অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সালাম মঞ্চে আসার জন্য মজিদের নাম ঘোষনা করেন। পাশ থেকে সহকারী অধ্যাপক মৃনা রানী বিশ্বাস বলেন, স্যার মজিদ আজ ক্লাশে আসেনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজ জীবনের প্রথম গুরুতপূর্ন এই দিনে মজিদ কলেজে না এসে পিতার সাথে পান বরজে কামলা দিচ্ছে। অনুষ্ঠান শেষে এ প্রতিনিধি ছুটে যান মজিদের কাজের স্থান উপজেলার কটকস্থল গ্রামের সোবহান বেপারীর পান বরজে। সেখানে সাক্ষাত মেলে মজিদের।
মজিদ হাওলাদার জানায়, তার পিতা কটকস্থল গ্রামের দিনমজুর আবুল কালাম হাওলাদার। ছয় সদস্যর পরিবার। তার পিতার একার উপার্জন দিয়ে কোন মতে চলে তাদের সংসার। সংসারের বড় সন্তান হিসেবে পিতার সাথে সংসারের হাল ধরতে হয় মজিদকে। সপ্তাহের গুরুতপূর্ন ক্লাশ গুলোয় সে উপস্থিত থেকে বাকি দিন কামলা দেয়। এভাবেই কামলা দিয়ে টরকী বন্দর ভিক্টোরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করে। ভাল ফলাফল করেও কলেজে ভর্তি না হওয়ার আংশকায় তার ভবিষৎত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মজিদ আরো জানায়, তার নিকটতম এক আত্মীয়র সহযোগীতায় বার্থী ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হয়েছে। কলেজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আবেগআপুত হয়ে মজিদ বলেন, পেটে ক্ষুধা রেখে সংবর্ধনা নেয়ার লাভ কি? কয়েকদিন দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে আমি ও আমার পিতা কামলা দিতে পারিনি। ঘরে খাবারমতো কিছু নেই। আজ আবহাওয়া প্রতিকুলে থাকায় পান বরজে কামলা দিচ্ছি। আমি ও আমার পিতা কাজ শেষে ২৪০ টাকা পাব, তা দিয়েই আজকের বাজার করতে হবে। এছাড়া বিকেলে ও রাতে দুটি প্রাইভেট পড়িয়ে যে টাকা পাই তা থেকে নিজের খরচের জন্য কিছু টাকা রেখে বাকি টাকা তুলে দেই বাবার হাতে। মজিদের স্বপ্ন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সে ভবিষৎতে চার্টার একাউন্ট হতে চায়। আর এ জন্য প্রয়োজন সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা। সমাজের মহানুভব সমাজপতি ও সরকারের সংশিষ্ট মন্ত্রনালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দিনমজুর ও মেধাবী ছাত্র মজিদ হাওলাদার চার্টার একাউন্ট হতে পারে।
গৌরনদী ডট কমের পক্ষ থেকে মজিদ-কে জানাচ্ছি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
সমাজের বিত্তবান / প্রভাবশালী ও প্রবাসীদের কাছে বিনীত অনুরোধ মজিদ-কে সহযোগীতা করার জন্য