আন্তর্জাতিক

আজ পবিত্র হজ

আজ শুক্রবার পবিত্র হজ। হাজিদের আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিন। সকাল থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকালাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা লাশারিকা লাক।

হজের তিন ফরজের মধ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লাখ লাখ হাজি দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও স্বীয় গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ জানাবেন। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্যের অবতারণা হবে আজ আরাফাতের ময়দানে।

প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর আগে এ ময়দানেই রাসূল (সা.) লক্ষাধিক সাহাবিকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এ ময়দানেই ইসলামের পরিপূর্ণতার ঘোষণা দিয়ে কুরআনের আয়াত নাজিল হয়েছিল। হাজিরা আজ আরাফাতের বিশাল প্রান্তরে অবস্থান করে মসজিদে নামিরাহ থেকে প্রদত্ত খুতবা শুনবেন ও একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ এক আজানে একই ইমামের পেছনে জোহরের ওয়াক্তে আদায় করবেন। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আরাফাত ময়দান ত্যাগ করবেন। হজের কার্যাদি পালন শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার মিনার তাঁবুতে অবস্থানের মধ্য দিয়ে। ভিড় এড়াতে অনেক হাজি বুধবার রাত থেকেই মিনায় যাওয়া শুরু করেন। বৃহস্পতিবারই বেশিরভাগ হাজি মিনায় অবস্থান করেন। মিনায় গিয়ে তালবিয়া, জিকির, নফল নামাজ, হজের মাসলা-মাসায়েল আলোচনার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন হাজিরা। শুক্রবার ফজরের নামাজের পরই আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে হাজিদের রওনা হওয়ার নিয়ম।

সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ। কেউ এ সময়ের মধ্যে এ ময়দানে অবস্থান করতে না পারলে হজ আদায় হবে না। এ ময়দানে জোহরের সময় পরপর জোহর ও আসরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করবেন হাজিরা। মুসাফির হওয়ার কারণে নামাজ কসর করবেন (চার রাকাতের স্থলে দুই রাকাত)। নামাজের আগেই সৌদি গ্রান্ড মুফতি মসজিদে নামিরাহ থেকে খুতবা দেবেন। এর আগে পরে হজযাত্রীদের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে পুরো ময়দান। আমির-ফকির, ধনী-গরিব, সাদা-কালোর ভেদাভেদ থাকবে না সেখানে। সবার পরনে একই ধরনের সেলাইবিহীন কাপড়, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ এবং তারই কাছে গুনাহ মাফ ও রহমতপ্রাপ্তির আকুতি জানাবেন। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই আবার মিনায় ফেরার পথে মুজদালিফা এলাকায় অবস্থান নেবেন হাজীরা। ওই স্থানে রাতে অবস্থান করবেন খোলা আকাশের নিচে। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন।

মিনায় জামারাতে শয়তানের প্রতিকৃতিতে নিক্ষেপের জন্য এখান থেকেই কঙ্কর সংগ্রহ করবেন। রাতে সেখানে অবস্থানের পর মঙ্গলবার ফজরের নামাজ শেষে মিনার দিকে রওনা হবেন। শনিবার সৌদি আরবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। মিনায় গিয়ে জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করে এসেই কোরবানি করবেন হাজিরা।

সৌজন্যে : প্রিয়.কম

আরও সংবাদ...

Back to top button