নলচিড়া ইউনিয়নে স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণে চরম অনিয়মের অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নে সরকারিভাবে নির্ধারিত হতদরিদ্রদের জন্য চাল বিতরণে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে—জনপ্রতি ৩০ কেজি চালের জন্য প্রতি কেজি ১৫ টাকা হিসেবে মোট ৪৫০ টাকা পরিশোধ করেও অনেক গ্রাহী ঠিক পরিমাণ চাল পাচ্ছেন না বলে তারা দাবি করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ৩০ কেজির টাকা দিতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে ২৪ কেজি, ২৫ কেজি, ২৮ কেজি বা ২৯ কেজি চাল পেয়েছেন। “আগে আমরা সাধারণত ২৪-২৬ কেজি পাই, আজকে ৩০ কেজির টাকা দিলেও ২৪ কেজি বা ২৫ কেজি দেওয়া হচ্ছে,”—বলেছেন কিছু চাল গ্রহিতা। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিলার পয়েন্টে উপস্থিত লোকজনের সামনে কয়েকটি বস্তার ওজন করে দেখা যায়—কয়েকটি বস্তায় ১০০–২০০ গ্রাম কম থাকলেও বেশিরভাগ বস্তায় ১ থেকে ২ কেজি বেশি চাল পাওয়া গেছে বলে দাবিও করা হয়।
চাল গ্রহিতা মনির সিকদার, স্বপন ও আনিচসহ অনেকে সাংবাদিকদেরকে বলেন, “আমরা ৩০ কেজির টাকা দিয়েছি, কিন্তু ফিরতি সঠিক অনুপাতে দিচ্ছেন না। অনেক সময় বলা হয় ওজন মেশিনে একটু তফাৎ হয়ে যায়।” তারা জানান, এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা উপরের দফতরে অভিযোগ করলেও আপাতত কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না।
নলচিড়া ইউনিয়নে বিতরণ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ডিলার হিসেবে পরিচিত গৌরনদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী আবু বকর সিদ্দিকের নাম উল্লেখ হয়েছে। তাকে ডিলার পয়েন্টে পাওয়া না গেলে মোবাইলে ফোন করলে তিনি কথা বলতে অনিচ্ছুক ছিলেন।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরীকে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি বলেন, তদন্ত করে ভুল হলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে এখন দেখার বিষয়—তদন্ত করে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম রোধে সুষ্ঠু তদারকি নিশ্চিত করা যায় কি না।




