সারা বাংলা

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও মিলছে না পিনাক-৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সন্ধান মিলছে না পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটির সন্ধান। এরইমধ্যে পেরিয়ে গেছে ৪ দিনেরও বেশি সময়। কান্ডারী-২ এর পাশাপাশি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লঞ্চ অনুসন্ধানে যোগ দেয় চট্টগ্রাম থেকে আসা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জরিপ-১০ জাহাজ।

তথ্য মতে, জরিপ-১০ আকারে ছোট হলেও এর কার্যক্ষমতা বেশি। চলার পথে দুই পাশে প্রায় ৩শ’ মিটার পর্যন্ত স্ক্যান করতে পারে। পাশাপাশি পানির নিচে পলিমাটি ও কাদামাটিতে ৭০ মিটার এবং বালি মাটিতে ১৮ মিটার গভীর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চালানোর ক্ষমতা রয়েছ এর।

এদিকে শুক্রবার দিবাগত রাত পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ৩৬ জনের লাশ। এদের মধ্যে ১৮ জনের পরিচয় জানার পর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল। সর্বশেষ রাত ১টার দিকে বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদী থেকে ৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১জন পুরুষ, ১জন নারী ও ১জন কন্যা শিশু। মাওয়া পুলিশ কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক ফরিদ উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পদ্মা নদীর মাওয়া-কাওরাকান্দির এলাকার ৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে খোঁজ করলেও কোন আলামত খুঁজে পায়নি উদ্ধার কাজে নিয়োজিতরা। বিআইডব্লিউটিএ, কোষ্টগার্ট, নেভি, চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ একযোগে উদ্ধার তৎপরতা চালালেও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত লঞ্চটি কোনা সন্ধান খুজে পায়নি উদ্ধারকারী জাহাজ কান্ডারী-২, সন্ধানী, তিস্তা, নৌবাহিনীর এলসিটি-০১২। খোঁজ পেলেই টেনে তোলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে রুস্তম ও নির্ভীক।

বৃহস্পতিবার রাত ৯ টা ২০ মিনিটে মাওয়া স্প্রিড বোট ঘাটে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অত্যাথুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এখন পর্যন্ত নিখোজ পিনাক-৬ এর খোজ মেলেনি। তবে আমরা এখনো উদ্ধার কাজ চালিযে যাচ্ছি। নিখোজ লঞ্চটি উদ্ধারের জন্য শুক্রবার সকালে আসছে জরিপ-১০ নামের একটি জাহাজ। এই জরিপ-১০ জাহাজে আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে মাল্টি ভিম সাইড স্কেনার, সাব বোটম প্রফাইল, সাইজ স্কেনার।

তিনি বলেন, নদীতে স্রোত বেশি থাকার কারণে এর কোনো আলামত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সম্ভাব্য স্থানে আমরা অনুসন্ধান চালাচ্ছি। সোমবার বেলা ১১টার দিকে কাওড়াকান্দি থেকে প্রায় আড়াইশ’ যাত্রী নিয়ে মাওয়া ঘাটে যাওয়ার পথে তীব্র স্রোতের কবলে ডুবে যায় লঞ্চ এমএল পিনাক-৬।

বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় ৩টি, শরীয়তপুরে ৮টি, বরিশালে ৫টি, চাঁদপুরে ৪টি, ভোলায় ১১টি, লক্ষ্মীপুরে ১টি ও মাদারীপুরে ১টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের তৈরি করা নিখোঁজের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী এখনো ১৩৪ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

চার দিন পেরিয়ে গেলেও লঞ্চ উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধার অভিযান ঠিকভাবে হচ্ছে না বলেও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো পোষ্ট...