পূঁজো এসেছে তাই প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত ভাস্কররা
খোকন আহম্মেদ হীরা, গৌরনদী থেকে ॥ আশ্বিনের কাশফুলের সাদা শুভ্রতা মনে করিয়ে দেয় দেবী দুর্গার
আগমনবার্তা। তাই শারদীয় উৎসব জমিয়ে তুলতে প্রতিমা তৈরিতে এখন মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রতিমা তৈরির ভাস্কররা। পুঁজো মন্ডপগুলোর প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে। সর্বত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে এখন বিরাজ করছে ভিন্ন আমেজ। ইতোমধ্যে চোখ ধাঁধানো পুঁজো মন্ডবের মঞ্চ তৈরিও নানা পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে উৎসব চলাকালীন সময়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা।
গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এবার প্রতিমা তৈরীতে খরচ বেড়েছে। এটেল মাটি, বাঁশ, সুঁতলীর দাম বাজারে অনেক চড়া। ফলে প্রতিমা তৈরিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ প্রতিমা ভাস্কররাও তাদের মজুরি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারপরও থেমে নেই হিন্দু সম্প্রদায়ের এ সর্ববৃহৎ উৎসব আয়োজনের। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দূর্গাপূজা শুরু হলেও এবার ২০ দিন পিছিয়ে যাওয়ায় আগামি ১৩ অক্টোবর বুধবার শারদীয়া দুর্গাদেবীর বোধন ও ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে পূঁজা অনুষ্ঠান শুরু হবে। ১৭ অক্টোবর দশমী পূজা শেষে প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সমাপ্তি হবে। দেবী দুর্গা গজে গমন করবেন, ফলে শস্যপূর্ণ্য বসুন্ধরা।
পূঁজা উদ্যাপন পরিষদের গৌরনদী উপজেলা শাখার সভাপতি ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সম্পাদক কালিয়া দমন গুহ জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পুঁজোর মন্ডব বৃদ্ধি পেয়েছে। গৌরনদীতে এবার ৬৮ ও বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বেশি আগৈলঝাড়া উপজেলায় ১৪৪ টি পূজা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন থেকে এখানে সকল সম্প্রদায়ের লোকজন সৌহার্দ্য পূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। উপজেলার দু’একটিস্থান স্পর্শকাতর থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় পূজা অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাপ্তি হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে এবার বর্ষার বিদায় নেয়ার শেষ সময়ে পুঁজোর উৎসবের দিনক্ষণ হওয়ায় আবহাওয়ার বৈরীতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারিভাবে আবহাওয়া অফিস এখনো আগাম কোন ঘোষণা না দিলেও এবারের পুঁেজা বৃষ্টিতে ভাসবে কিনা এ নিয়ে চিন্তিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।
গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম-পিপিএম জানান, শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সাদাপোষাকে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন পূজা মন্ডবসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অপরদিকে দর্জি পাড়ার শ্রমিকেরা এখন মহাব্যস্ত। দু’উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের দর্জি দোকানগুলোতে এখন ক্রেতা সাধারণের প্রচন্ড ভিড়। ঈদের আমেজ শেষ হতে না হতেই পূজোর আমেজ শুরু হওয়ায় দর্জির দোকানগুলোর সেলাই কারিগরদের রাতের ঘুম বন্ধ হয়ে গেছে। পছন্দের পোশাক তৈরি করিয়ে নিতে লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন দর্জির দোকানগুলোতে। তবে কাপড়ের দোকানগুলোতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ভিড় লক্ষণীয়।