বরিশাল-১ আসনের আওয়ামীলীগ সমর্থক নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রানচাঞ্চল্য
২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর সহিংস ঘটনায় সরকারি তদন্ত কমিটি আসছেন আগামিকাল
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোটের সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্বাচনোত্তর দেশের আলোচিতস্থান বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) নির্বাচনী এলাকায় ঘটে যাওয়া সহিংস ও আলোচিত ঘটনার তদন্তে আগামিকাল (রবিবার) বরিশালে আসছেন সরকারি তদন্ত কমিশন। এ সংবাদে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রানচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম নির্যাতনের স্বীকার এ দু’উপজেলার আওয়ামীলীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনে দীর্ঘ ৯ বছর পর তাদের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নির্যাতনের ঘটনা বর্ননা করার জন্য ও বিচারের আশায় আগামিকাল রবিবার নিজ নিজ উদ্যোগে বরিশাল সার্কিট হাউসে যাবেন বলেও জানা গেছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতার অত্যাচার নির্যাতনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও সংঘটিত ঘটনার তদন্তে বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে আগামিকাল রবিবার সরকারি তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম চলবে। এই কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি পদমর্যাদাপ্রাপ্ত সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শাহাবুদ্দিন। রবিবার সকাল ৯ টায় বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক মানবাধিকারকর্মী, সংবাদ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের ব্যক্তিদের সঙ্গে তদন্ত কমিশন মতবিনিময় করবেন। এসময় নির্যাতিত ব্যক্তিরা সার্কিট হাউসে উপস্থিত হয়ে তাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করতে পারবেন।
গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামের নির্যাতিত আওয়ামীলীগ কর্মী গোলাম হেলাল মিয়া জানান, বিগত বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তার প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সন্ত্রাসীরা তার বসত ঘর, ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, শারিরিক নির্যাতনসহ পুকুরের মাছ লুট করে নিয়েছে। দীর্ঘদিনেও সে বিএনপির সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের কথা কাউকে জানাতে পারেননি। বলেন, জানিয়ে কি হবে, আজ সময় এসেছে সেইসব কথা বলার, কমিশনের কাছে বিচার প্রার্থনায় বরিশাল সার্কিট হাউজে গিয়ে সব বলবো।
ইল্লা গ্রামের নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রনব রঞ্জন ওরফে বাবু দত্ত জানান, ইতিপূর্বে বিচারের আশ্বাসে তিনি জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কোন সুফল পাননি। এবার সরকারি তদন্ত কমিশনের কাছে শেষ বারের মতো বিচারের আশ্বাসে তিনি আবেদন করবেন বলেও উল্লেখ করেন।
গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আহ্বায়ক কালিয়া দমন গুহ জানান, দীর্ঘদিন পরে হলেও সরকারি তদন্ত কমিশনের সম্মুখে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার নির্যাতিত আওয়ামীলীগ সমর্থক নেতা-কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন যেতে চাচ্ছে। তবে অধিক দুরত্বের কারনে অধিকাংশ নির্যাতিত পরিবারের লোকজন বরিশাল সার্কিট হাউসে উপস্থিত হতে পারবেন কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক সরকারি তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে সরকারের তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য সফল হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর পরই জোটের ক্যাডাররা বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায়) নির্বাচনী এলাকায় হত্যা, ধর্ষন, লুট, হামলা, ভাংচুরসহ ব্যাপক নির্যাতন ও সহিংসতা চালায়। ওইসময় এ দু’উপজেলার হাজার-হাজার আওয়ামীলীগের নির্যাতিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা পার্শ্ববর্তী কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীলে আশ্রয় নিয়েছিলো। তৎকালীন চারদলীয় জোটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী শপথ নেয়ার পর পরই এ আসনে প্রথম সফরে এসেছিলো। ওই সময়ের হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিত আওয়ামীলীগ সমর্থকদের কোন নেতা আশ্রয় না দেয়ায় গত ৯ বছরেও চারদলীয় জোটের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোন মামলা হয়নি। সংশ্লিষ্ট থানায় দু’একটি অভিযোগ দায়ের করা হলেও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সেসব অভিযোগ থানা থেকে উধাও হয়ে যায়।
সূত্র মতে, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সহস্রাধীক আওয়ামীলীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর জোটের সন্ত্রাসীরা নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিলো। এছাড়াও ওইসব সন্ত্রসীদের হামলায় প্রান দিতে হয়েছে আওয়ামীলীগ সমর্থক আগৈলঝাড়ার বীর বাহাদুর ও গৌরনদীর সফিকুল ইসলাম বুলেটকে।