গৌরনদী সংবাদ

১৩ দিনেও গৌরনদীর গৃহবধূ হেপী আকতার হত্যায় জড়িতদের কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি

গৌরনদী প্রতিনিধি :গৃহবধু হেপি আকতার (২৬) হত্যাকান্ডের ১৩দিন অতিবাহিত হলেও বরিশালের গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িতদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে সৃষ্ট দাম্পত্য কলহের জের ধরে শ্বশুর বাড়ির লোকজন গত ১৫ ফেব্রুয়ারী সকালে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ ওই গৃহবধুকে হত্যা করেছে বলে নিহত গৃহবধুর পিতা মোঃ মোস্তফা খান অভিযোগ করেছেন।
নিহত গৃহবধুর স্বজন, স্থানীয় বাসিন্ধা ও পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, গত প্রায় ১০বছর পূর্বে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিন ধানডোবা গ্রামের মৃত সুরাত খানের পুত্র মহসিন খানের সাথে একই উপজেলার উত্তর বিজয়পুর গ্রামের মোঃ মোস্তফা খানের কন্যা হেপি আকতার (২৬)র বিয়ে হয়। তাদের ঘরে আরাফত (৭) নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। হত্যাকান্ডের সময় নিহত গৃহবধু হেপি ৭ মাসের অন্তঃসত্বা ছিল।
নিহত গৃহবধুর পিতা মোঃ মোস্তফা খান জানান, তার জামাতা মহসিন ৫ বছর ধরে চট্রগ্রামের চাকুরী করার সুবাধে সেখানে একটি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি ১৫দিন আগে হেপি জানতে পারেন। এ নিয়ে হেপির সাথে স্বামী মহসিনের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এক পর্যায়ে ঝগড়া ঝাটি শুরু হলে হেপিকে বেদমভাবে মারধর করা হয়। হেপিকে মারধরের ঘটনায় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দিলে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার উপজেলার দক্ষিন ধানডোবা গ্রামের এলজিইডি’র কর্মকর্তা মোঃ হারুন খানের বাড়িতে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠকে মহসিন দ্বিতীয় বিয়ের জন্য ক্ষমা চান ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে পরিত্যাগ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মুচলেকা দেন। এলজিইডি’র কর্মকর্তা মোঃ হারুন খান ওই সালিশ বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন।
মোস্তফা খান অভিযোগ করেন, সালিস বৈঠক করায় হেপির স্বামী মহসিন, ভাসুর আলমগীর খান, কবির খান. জা মুন্নী বেগম ও ননদ তাসলিমা ক্ষিপ্ত হন এবং হেপিকে উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য সাশিয়ে দেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ নিয়ে হেপির ভাসুর আলমগীর খান, কবির খান. জা মুন্নী বেগম ও ননদ তাসলিমা বেগমের সাথে হেপির ঝগড়া হয়। ভাসুর আলমগীর খান, কবির খান. জা মুন্নী বেগম ও ননদ তাসলিমা মিলে তখন হেপিকে বেদম মারধর করে। তাদের মারধর ও নির্যাতনের এক পর্যায়ে হেপী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে নির্যাতনকারীরা শ্বাসরোধ করে হেপীকে হত্যা করে। এর পর গৃহবধু হেপীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে হেপি আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকায় প্রচারনা চালায়। এরপর আমাকে খবর দেয়, আমি গিয়ে হেপীর লাশ উঠানে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পাই। থানা পুলিশও একই অবস্থায় লাশ পেয়ে উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে মেয়ের লাশ গ্রহন করে আমি আমাদের বংশীয় গোরস্থানে দাফন করি। পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকালে আমি বাদি হয়ে হেপীর স্বামী মহসিন, ভাসুর আলমগীর খান, কবির খান. জা মুন্নী বেগম ও ননদ তাসলিমা বেগমকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করি।
আজ ১৩দিন অতিবাহিত হয়ে গেল, থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত হত্যাকান্ডে জড়িতদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল থানার এসআই ইয়াকুব হোসেন জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। রিপোর্ট পেলে পরবর্তি আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply