গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীতে ভূল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সালিশ বৈঠকে হামলা ক্লিনিক ভাংচুর॥ আহত-৩

গৌরনদী প্রতিনিধি: ভূল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে রোববার সন্ধ্যায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি এলাকায় শারমিন ক্লিনিকে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে হামলা চালিয়ে ক্লিনিক ব্যাপক ভাঙচুর ও মালিকসহ ৩ কর্মচারীকে মারধর করেছে মৌসুমীর স্বজনরা। এ ঘটনায় রাতেই থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে যুবলীগ কর্মী মাসুম মীরকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্সদর্শীরা জানায়, পাশর্^বর্তী কালকিনি উপজেলার আন্ডারচর গ্রামের আলী আহম্মেদের স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের প্রসব বেদনা শুরু হলে স্বজনরা গত মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি শারমিন ক্লিনিকে ভর্তি করেন। ওইদিন রাত ১১টার দিকে বাকেরগঞ্জ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের কর্মরত ডাক্তার রফিকুুল ইসলাম ওই প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন করেন।  ক্লিনিকের ডাক্তার মৌসুমীর পেট থেকে জীবিত একটি পুত্র সন্তান বের করেন। এরপর রোগী মৌসুমীর অতিরিক্ত ব্লাডিং (রক্তক্ষরন) শুরু হলে ক্লিনিকের কর্তব্যরত ডাক্তার রাত দেড়টার দিকে তাকে বরিশাল হাসপাতালে রেফার্ড করেন । ওইদিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে মৌসুমীকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত সোয়া ৪টার দিকে সে মারা যায়। এ খবর জানাজানি হলে ওইদিন সকালে মৌসুমীর কয়েকজন বিক্ষুব্ধ স্বজন শারমিন ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে একটি জানলার গ্লাস ভাংচুর করে। ভূল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা মিমাংসা করার জন্য শারমিন ক্লিনিকে রোববার বিকাল ৫টার দিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ম্যেসুমীর স্বজনরা  গ্রাম্য এক  সালিশ বৈঠকে বসে। মাতুব্বররা উভয় পক্ষের বক্তব্যে শোনার শেষে সন্ধ্যায় ক্লিনিক মালিক এম.এ ওহাব ও মৌসুমীর স্বজন সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সিরাজুল ইসলামের মধ্যে বাকবিতন্ডা বাঁধে। এক পর্যায়ে সিরাজুল ইসলাম, যুবলীগ কর্মি আরিফ হোসেন, মাসুম মীরের নেতৃত্বে সরকারি দলের মৌসুমীর ১৫-২০ বিক্ষুব্ধ স্বজন সালিশ বৈঠকে হামলা চালিয়ে ক্লিনিকের আসবাবপত্র, টিভি, দরজা, জানালা ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় ক্লিনিকের মালিক এম.এ ওহাব, কর্মচারী সাইদুল ইসলাম, সুজন সরদারকে মারধর করে তারা। হামলার সময় জানালার ভাঙ্গা গ্লাস (কাচ) পড়ে এক নবজাতক আহত হয়।
হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে স্বেচ্ছসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সিরাজুল ইসলাম, যুবলীগ কর্মী আরিফ হোসেন বলেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে আমাদের ফুফাতো বোন মৌসুমী মারা গেছে। ঘটনার বিক্ষুব্ধ স্বজনরা কিনিকে হামলা চালায়।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ভাংচুরের ঘটনায় ক্লিনিকের মালিক এম.এ ওহাব বাদী হয়ে সিরাজুল ইসলাম, আরিফ হোসেন, মাসুম মীরের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনকে আসামি করে রোববার রাতেই দ্রুত বিচার আইনে  মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মাসুম মীরকে গ্রেফতার করে গতকাল সোমবার দুপুরে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠায়।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply