গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীতে লো-ভোল্টেজে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা অতিষ্ঠ

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় পবিত্র রমজান মাসেও বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি লো-ভোল্টেজের কারণে গ্রাহকেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। ইফতারী, তারাবির নামাজ ও সেহরিসহ দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুত পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। আর যেটুকু সময়ও বা পাওয়া যাচ্ছে তা লো-ভোল্টেজের কারণে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্রমতে, দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ের বসত বাড়িতে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্সের মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সংশ্লিষ্টদের কোন মাথা ব্যাথাই নেই। এসব সমস্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করার পরেও সমাধান না হওয়ায় গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুতের এ ভানুমতি খেলায় ভ্যাপসা গরমের মাঝে রোজাদার ব্যক্তিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকে গৌরনদী পৌরসভাসহ উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করে। যার কারণে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। লো-ভোল্টের কারণে বৈদ্যুতিক মোটর না চলায় পাম্প নির্ভর বাসাবাড়িতে চলছে পানির জন্য হাহাকার। অধিকাংশ বাসা-বাড়ির ফ্রিজ এখন অকেজো হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে গৌরনদী পৌর এলাকার গেরাকুল গ্রামেরই প্রায় ২০টি ফ্রিজ নস্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার ভূক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, দিনের অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এছাড়া ইফতারী, তারাবির নামাজ ও সেহরির সময়ও বিদ্যুৎ না থাকায় ধর্মপ্রাণ রোজাদার ব্যক্তিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ঘন্টাখানের বিদ্যুত সরবরাহের পরপরই চলে টানা লোডশেডিং। যা ২ থেকে ৩ ঘণ্টায়ও শেষ হয় না। গত কয়েকদিন ধরে রাতে কমপক্ষে ৬/৭ বার বিদ্যুতের ভেলকিবাজি ও লো-ভোল্টেজের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় লো-ভোল্টের কারণে কম্পিউটার, ফটোকপি, ফ্রিজ, ফ্যান ও পানির মোটর ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

গৌরনদী পৌরসভার আট নং ওয়ার্ড গেরাকুল মহল্লার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বিদ্যুত লাইনটি গৌরনদীর সরিকল ইউনিয়নের শেষ সীমানা মিয়ারচর-কুড়িরচরের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় আমাদের ঘণ ঘণ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে। অপরদিকে একই ট্যান্সফরমারে অতিরিক্ত সংযোগ থাকায় লো-ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক ফ্যান পর্যন্ত ঘুড়ছেনা। এছাড়া একটু বাতাস কিংবা বৃষ্টি হলেই পুরো লাইনের সংযোগ একবার বন্ধ করা হলে তা সচল হতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা সময় লাগে। এ সংকট নিরসনে পৌর এলাকার মধ্যকার সংযোগ আলাদা করার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার ধর্ণা দিয়েও কোন সুফল মেলেনি।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply