গৌরনদী সংবাদ

বাটাজোড় দরপত্র ছাড়া সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ

দরপত্র ছাড়াই সরকারি রাস্তার বিভিন্ন প্রজাতির ১৭৫ টির অধিক গাছ পানির দরে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলার গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

গতকাল মঙ্গলবার (০৬ জুন) সকাল দশটায় সরেজমিন উপজেলার উত্তর পশ্চিম চন্দ্রহার-সরিকল (মাহিলাড়া বড় মঠের) রাস্তায় গিয়ে দেখা গেছে গাছ কাটার চিত্র।

গাছ ক্রেতা মজিবর রহমান জানান, তিনি (মজিবর) ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ১১৫ টি মেহগনি গাছ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ক্রয় করছেন।

স্থানীয়রা জানান গত একমাস পূর্বেও চেয়ারম্যান একই রাস্তার ৬০ টি চাম্বল গাছ বামরাইলের গাছ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের কাছে পানির দরে বিক্রি করে দেন।

জানাগেছে, ১৯৯৭ সালে উপজেলার উত্তর পশ্চিম চন্দ্রহার-সরিকল ( মাহিলাড়া বড় মঠের) রাস্তায় এনজিও (সংস্থা) প্রশিকার সহায়তায় ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশিকার চারটি সমিতির সদস্যদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে রাস্তার দুইপাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়।

চুক্তিতে গাছ বিক্রির সময় ইউনিয়ন পরিষদের ১০%, সংশ্লিষ্ট এনজিও’র ১০% এবং সুবিধাভোগি সদস্যদের ৮০% সুবিধাভোগ করার সুযোগ রয়েছে।

প্রশিকার এরিয়া সমন্বয়কারী শামিম আহম্মেদ জানান, বাটাজোর ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সদস্যদের সাথে কথা বলে কিছু গাছ বিক্রি করেছেন জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে গাছকাটা বন্ধ রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদার জানান, মৌখিক অনুমতির প্রেক্ষিতে পরিষদের জায়গায় লাগানো গাছ সমিতির সদস্যরা বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নিয়েছে। এক্ষেত্রে পরিষদের ১০% টাকাও নেয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েই মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা বন কর্মকর্তা মনিন্দ্র নাথ জানান, সরকারি যে কোন দপ্তরের গাছ গাছ বিক্রি করতে হলে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানকে উপজেলার পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি’র রেজুলেশনসহ জেলা বন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে। জেলা বন কর্মকর্তা অনুমোদন দিলে উপজেলা বন কর্মকর্তা ওই গাছের মূল্যে নির্ধারন করে দেওয়ার পরই বিক্রি করতে পারবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহম্মেদ (ভারপ্রাপ্ত) জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...