গৌরনদীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা পদক প্রদান
গৌরনদীঃ মরোনত্তর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা পদক গ্রহন (বামে), উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ (ডানে)
“আবেগ আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন মুক্তিযোদ্ধারা”
“যার ডাকে সারা দিয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিলাম, নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে ছিনিয়ে এনেছিলাম সবুজে রক্তে লাল বিজয় পতাকা, সেই মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার স্ব-পরিবারকে স্বাধীন দেশের মাটিতেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটা জাতির জন্য তথা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি কলংকজনক অধ্যায়। দীর্ঘদিন পরে হলেও অতিসম্প্রতি স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে।
অনতিবিলম্বে আত্মস্বীকৃত অন্যান্য খুনীদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে” বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারন ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে এ সময় আবেগআপ্লুত হয়ে বক্তা, অনুষ্ঠানে আগত প্রায় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাসহ তরুন প্রজন্ম কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। এমনই এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কান্ডপাশা আইডিয়াল ক্লাবের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে কান্ডাপাশা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ খান। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গৌরনদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহ আলম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা মাহবুব আরা বেগম, নলচিড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দার আলী মৃধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন বালী, জাফর বালী, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা প্রদ্বিপ কুমার নাগ, জি.এম হারুন মৃধা, এমদাদুল হক আলীম, ক্লাবের সভাপতি কাজী আবু সালেহ্ সাইফুদ্দিন নসরু। আলোচনা শেষে উপজেলার কান্ডপাশা, সরিকল, নলচিড়া ও হোসনাবাদ গ্রামের প্রয়াত ২৩ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের মাঝে মরোনত্তর ও ৫৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।
