গৌরনদীতে পাটের বাম্পার ফলন ॥ অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় চাষীরা বেশ খুশি

গৌরনদী ॥ চলতি বছর বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ার সম্ভাবনায় খুশির কোন কমতি নেই কৃষকদের মাঝে। পাশাপাশি পানির অভাবে পাট পচাঁতে ভোগান্তির শিকার হবে বলে আশংকা করছেন কৃষকেরা।
গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার মন্ডল জানান, চলতি বছর পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল তোষা ও দেশী ১৪০ হেক্টর, মেস্তা ২৫০ হেক্টর। ধার্যকৃত এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাট চাষ হয়েছে তোষা ও দেশী ৬৩০ হেক্টর, মেস্তা ৪২০ হেক্টর। উপজেলার তাঁরাকুপি গ্রামের কৃষক সোনা মিয়া ফকির জানান, মৌসুমের শুরুতে বর্ষা না হওয়ায় কৃষকেরা সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি দিয়ে পাট চাষ করেন। পাট গাছে পাতা বের হওয়ার পরপরই ঘোড়া ও লেদা পোকায় আক্রমন করায় প্রথম দিকে পাট গাছ বাড়তে পারেনি। পরবর্তীতে কীটনাশক ব্যবহার করে পোকার আক্রমন থেকে পাট গাছকে রক্ষা করা হয়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলন তিনগুন হয়েছে। বাজারে পাটের মূল্যও ভাল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বার্থী গ্রামের পাট চাষী আজিজ বেপারী জানান, ভরা বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে পানি না থাকায় পাট পচাঁতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ক্ষেত থেকে পাট কাটার পর পানির অভাবে অন্যত্র নিয়ে পাট জাগ দিতে (পচাঁতে) অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হচ্ছে। অপর পাট চাষী হালিম শাহ্ জানান, গতবছর তিনি ত্রিশ শতক বর্গা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এ বছর তিনি আশি শতক বর্গা জমিতে তোষা ও দেশী পাট চাষ করেছেন। তিনি আরো জানান, গত পনের দিন পূর্বেও দেশী প্রতিমন পাটের মূল্য ছিলো ২৮’শ থেকে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে তার মূল্য ২২’শ থেকে ২৫’শ টাকা। দাম একটু কম হলেও বাম্পার ফলন হওয়ায় উপজেলার পাট চাষীরা এখন বেজায় খুশি।