বর্জন তো করলাম, অর্জন কিভাবে করা যায়….!!!
আমেরিকার ইরাক আক্রমন পরবর্তী সময়ে "আমেরিকান পণ্য বর্জন"এর যে হিড়িক উঠেছিলো সেটা। কিন্তু যা দেখা গেলো পরবর্তীতে তা হলো- ইরাক পুরো তামা করে ফেলে আমেরিকা দাঁত কেলিয়ে বাড়ি ফিরলো আর আমরা বলদ বাঙালির দল আমেরিকান ব্র্যান্ডের টিভিতে সেগুলো দেখতে দেখতে দাঁত খিঁচোলাম। লাভের বেলায় লবডঙ্কা! আমার ধারণা এই যে, আজকে আমরা মহোল্লাসে জামাত-শিবিরের অর্থ-সংস্থানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর লিস্টি বানাচ্ছি- এখন থেকে অনূর্ধ্ব ঠিক ৪৭ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড পরেই আমরা সৃষ্টি গুড়ো দুধ দিয়ে এককাপ চমৎকার চা বানিয়ে চুমুক দিতে দিতে, ইস্লামিক ব্যাঙ্কে জমানো টাকায় ছেলেপিলেকে মানারাতে পড়াতে পাঠাবো, কিম্বা নয়াদিগন্তে কি লিখছে আজকাল তা দেখার জন্য এড্রেসবারে দিব্যি টাইপ করে বসব- নয়াদিগন্ত ডট কম।
এগুলো করে তাই বিশেষ লাভ দেখছি না। কেননা, আজকে আপনি দেশের ব্যাঙ্কিং সেক্টর এর দিকে তাকিয়ে দেখুন- ইস্লামিক ব্যাঙ্কের দেয়া গড় মুনাফার পরিমাণ অন্য যেকোনো পরিচিত বা নির্ভরযোগ্য ব্যাঙ্কের তুলনায় বেশী। তাদের ব্যাঙ্কের প্রতিটা কর্মকর্তা কর্মচারীর কাস্টোমার সার্ভিস সেন্স অন্য যেকোনো ব্যাঙ্কের ইমপ্লয়িদের থেকে চমৎকার। আর মাথার ওপর ঐশ্বরিক সাইনবোর্ড তো আছেই…
ঠিক সেরকম-ই- অন্যান্য প্রাইভেট ভার্সিটিতে যেখানে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ধাক্কা সামলানো লাগে সেখানে তুলনামূলক অনেক কম খরচে পড়াচ্ছে- IIUC (ইস্লামিক ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি চিটাগাং!)! জীবনের তাগিদেই সেখানে ভর্তি হচ্ছে আমাদের ছাত্ররা। আমি ব্যক্তিগতভাবে একাধিক ছাত্রকেই চিনি যারা মনে-প্রাণে জামাতকে ঘৃণা করে কিন্তু, ভর্তী হতে বাধ্য হয়েছে সেখানেই। এক্ষেত্রে যদিও মানারাতের কথা কিছুটা ভিন্ন। সেখানকার খরচ কিছুটা বেশী।
এরপরে যদি গরুর গোয়াল কোচিং সেন্টারগুলো দেখতে যাই তাহলে তো ঠগ বাঁছতে গাঁ উজাড়ের দশা হবে। ফার্মগেট মোড়ে বা গ্রীনরোডের মোড়ে দাঁড়ালে দু’ধারে যতগুলো আবর্জনা দেখা যায়; তার ৮০% ই এই জামাত-শিবির চালিত! এতে আবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে সৃষ্টি করেছে- “সৃষ্টি স্কুল কোচিং!!” যারা এখন সকল গন্ডিতেই ব্যাপ্ত- স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি এবং সর্বশেষে রিটেইল শপ! তাহলে আমাদের দেশের সর্বোচ্চ মাত্রায় অসৎ শিক্ষকদের অসততার জন্য তারা যেহেতু ক্লাসে ঠিক মতো পড়াচ্ছেন না- কিম্বা একটা ধারা চালু করেই দিচ্ছেন যে ধারায় “কোচিং সেন্টার” নামক উদ্ভট বস্তুটির প্রসার অনিবার্য; সেখানে ছাত্ররা যেকোনো একটি গোয়ালঘর নির্বাচন করতে গেলেই তো শতকরা ৮০ ভাগ সম্ভবনা রয়ে যাচ্ছে জামাত অধ্যুষিত কিছুতে গিয়ে বাঁধা পড়ার।
তারপর আছে, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর ব্যপার। সেখানেও ইবনে সিনা দিব্যি অতি স্বল্প খরচে (বাজারে প্রচলিত মূল্যমানের চেয়ে ২৫% কমে) ঘোষণা দিয়েই ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাছাড়া যেখানে একজন সাধারণ মেডিক্যাল ছাত্রকে পাশ ক’রে বেরিয়েই অকূল পাথারে পড়তে হয়- সেখানে শিবিরের একজন ছাত্র দিব্যি চাকরী পেয়ে বসে ইবনে সিনা ইত্যাদিতে।
একইভাবে কেয়ারী গ্রুপ-এর ব্যাপারে বলা যায়- দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট-মার্টিনে যাবার একমাত্র বাহনটি হয়ে আছে “কেয়ারী সিন্দবাদ, দ্যা জামায়াতি ফেরি!” কেনো?! দেশের সরকার, পর্যটন মন্ত্রনালয়, স্থানীয় হোমড়া-চোমড়া-রা কি করেছে এতোদিন?! তারা কেনো বিকল্প যান যাতায়াতের ব্যবস্থা করেনি, মেরুদন্ডহীন জনগনের টাকায় চর্বিধারী বি আই ডাব্লিউ টি সি নামক ভাঁড় প্রতিষ্ঠানটি কী করেছে?! এখন জামাতচালিত বিধায় আমরা গর্ধব জনগণ এটাকে বর্জন করলে, সবাইকে কি একেকজন ব্রজেন দাশ হতে হবে বঙ্গোপসাগর সাঁতড়ে নাড়কেল জিঞ্জিরায় যেতে!
তাহলে যা দেখছি আমরা তা হলো- এদের বিস্তৃতি বা ব্যপ্তি আমাদের দৈনন্দিনে আমেরিকার থেকে মোটেও কম নয়। সুতরাং আমাদের উচিত সাফোকেটেড হয়ে মরে যাওয়া, কিম্বা না খেয়ে পড়ে থাকা!! তাই কিনা?!!
এখন এর উত্তর কি কেউ দেবেন?!
Writer : অনুস্বর – NagorikBlog.com
*লেখার সম্পুর্ন দায় দ্বায়িত্ব লেখকের