গৌরনদীতে আদর্শ হাসপাতালের ২০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি দখল করেছে প্রভাবশালীরা
এইচ এম সুমন গৌরনদী থেকে: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী বাটাজোর এলাকার হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য নির্মিত বাটাজোর আদর্শ হাসপাতালের নিজস্ব ভবন ও জমি জবর দখল করে ভোগ করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। স্থানীয়রা জানান দখলকৃত সম্পত্তি ও ভবনের আনুমানিক মুল্য ২০ লক্ষ টাকা। প্রভাবশালী অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে হাসপাতালটি চালুর জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাশী।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ ও সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর গ্রামের মৃত আনোয়ার উদ্দিন খলিফার পুত্র সমাজ সেবক মোঃ রহম আলী খলিফা পল্লী এলাকার মানষের চিকিৎসা সেবার জন্য একটি হাসপাতাল নির্মানের উদ্যোগ নেন। ১৯৮১ সালে তিনি বাটাজোর আদর্শ হাসপাতালের নামে বাটাজোর মৌজার জে এল ১৭৮ এস এ-৮৮ খতিয়ানে ১৮ থেকে ২৫ দাগের (৮টি দাগ থেকে) আশি শতাংশ পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি বাটাজোর আদর্শ হাসপাতালের নামে নিরুপন দলিল প্রদান করেন। ওই বছরই হাসপাতালের নামে দলিলকৃত সম্পত্তির একাংশে হাসপাতালের চিকিৎসকদের বসার জন্য ৩০ফুট দৈর্ঘ ১৫ ফুট প্রস্থ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মান করেন। স্থানীয়রা জানান, ১৯৮১ সালের নভেম্বর মাসে বাটাজোর আদর্শ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। বাটাজোর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাসেন বলেন, সমাজ সেবক মৃত রহম আলী খলিফা হাসপাতাল নির্মান করে স্থায়ীভাবে দুইজন চিকিৎসক নিয়োগ করেন। তিনি নিজেই হাসপাতাল পরিচালনার ব্যায়ভার বহন করতেন। বাটাজোর অশ্বীনি কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ খালেক বিশ্বাস বাটাজোর গ্রামের ব্যাবসায়ী মোঃ নুরে আলম , মোঃ নুর ইসলামসহ স্থানীয় লোকজন জানান, ১৯৮৭ সালে,মোঃ রহম আলী খলিফা মারা যাওয়ার কিছুদিন পর গৌরনদীর সিমান্তবর্তী উজিরপুর উপজেলার আটক গ্রামের প্রভাবশালী জনৈক আইনদ্দিন হাওলাদারের পুত্র মোঃ গনী হাওলাদার, নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি বাটাজোর আদর্শ হাসপাতালের নামের সম্পত্তি জাল ডিক্রি করে দখল করেছে। তারা আনুমানিক ২০ লক্ষ
টাকার সম্পত্তি জোর পূর্বক ভোগ দখল করে আসছে। ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন সময় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ভবনসহ সম্পত্তি জোর পুর্বক দখল করে নেন । পরে তারা হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। মৃত মোঃ রহম আলী খলিফার পুত্র আলী আকবর খলিফা জানান, ওই সময় হাসপাতালের সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য তিনি তৎকালীন সময়ের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও কোন সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ২০০০ সারের ২৫ জুন তিনি ( আলী আকবর খলিফা )পুনরায় বরিশালের তৎকালীন জেলা প্রশাসক এর কাছে হাসপাতাল চালু ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ কার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কর্তক (মেমো নং ৪২ জুডি/তারিখ ৪/২/২০০০ ইং স্বারকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব ও জি পি কে পত্র প্রদান করে আইনগত মতামত জানতে চান । জেলা সরকারী কৌশলীর (স্বারক নং ৭৭তাং ২১/১২/২০০০ ইং তারিখ)এক স্বারকে মতামত প্রদান করেন । এতে বলা হয় একটি মহল জাল জালিয়াতি পূর্বক সম্পত্তি আত্মসাতেব চেস্টা চালাচ্ছে ,উক্ত ৮০ শতাংশ সম্পত্তি থেকে অবৈধ উচ্ছেদ পর্বক সম্পত্তি হাসপাতালের নামে রেকর্ড করতে আইনগত বাধা বিপত্তি নাই। এ আদেশ বাস্থবায়িত না হওয়ায় পুনরায় আলী আকবর খলিফার আবেদনের প্রেক্ষিতে বরিশালের জেলা প্রশাসক স্বারন নং জেঃ প্রঃ বরি /রেভ/১৬-১/২০০২/৯২৯তাং ২৭/০৪/২০০২ দ্বিতীয় দফা মতামত চান। স্বারক নং ৩৫৯জিপি তাং ৯/৭/২০০২ ইং তারিখে একই মতামত প্রদান করেন। গত ১০ বছরে ও এ আদেশ বাস্থবায়িত হয়নি। দখলমুক্ত হয়নি বাটাজোর আদর্শ হাসপাতালের সম্পত্তি। বাটাজোর আদর্শ হাসপাতালের ভবন ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ সম্পর্কে দখলদার মোঃ গনী হাওলাদার ও নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে জাল জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে তারা বলেন, আমরা জোর পূর্বক কোন সম্পত্তি দখল করিনি। আমরা এ জমির ক্রয়সূত্রে মালিক।