গৌরনদীতে পুলিশের বাঁধার মুখে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ পন্ড – লাঠিচার্জে ৩ জন আহত
গৌরনদী ॥ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার বিকেলে ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ পুলিশের বাঁধার মুখে পন্ড হয়ে গেছে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে এক স্কুল শিক্ষকসহ তিনজন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষের লোকজনে সরিকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে ৯টি মিথ্যে মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ গত ২০ জুন বরিশাল সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে উপজেলার কুরিরচর গ্রামের মনির হোসেন সরদার ১০ বছর পূর্বের ঘটনায় চেয়ারম্যান মিলনকে অভিযুক্ত করে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি এজাহারভুক্ত করার জন্য গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসিকে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ পেয়ে গৌরনদী থানা পুলিশ গত সোমবার চেয়ারম্যান মিলনকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন মিলন অভিযোগ করেন, তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে গৌরনদী থানা পুলিশ গত সোমবার সরিকল ইউনিয়ন পরিষদসহ একাধিক গ্রামে অভিযান চালায়। এর প্রতিবাদে সরিকল ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে গতকাল বুধবার বিকেলে কুরিরচর রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মোঃ এনায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচী শুরুর পূর্বেই বিকেল সাড়ে তিনটায় গৌরনদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে বাঁধা প্রদান করে। এসময় পুলিশ মাইক ও ব্যানার ছিনিয়ে নেয় বলে এনায়েত হোসেন অভিযোগ করেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ সমাবেশে বাঁধা দেয়ার প্রতিবাদ করলে পুলিশ লাঠি চার্জ শুরু করে। এ সময় কুরিরচর রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন, স্থানীয় সমাজ সেবক আজাহার হোসেন ও বাবুল কবিরাজকে পুলিশ লাঠিপেটা করে।
এ ব্যাপারে গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ নুরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মিলনকে গ্রেফতারের অভিযানের কথা অস্বীকার করে বলেন, ওইদিন পুলিশ ইউপি চেয়ারম্যান মিলনকে গ্রেফতার করতে নয়। তার বাড়ির পার্শ্বের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়েছে। পুলিশী বাঁধা ও লাঠিচার্জের কথা অস্বীকার করে তিনি আরো বলেন, আইন শৃংখলা রক্ষার জন্য পুলিশ সভাস্থলে উপস্থিত হলে কর্মসূচী পালনে কোন লোকজন সমাবেত হয়নি।