জাতীয়

বিয়ের বয়স কমাতে রাজি নয় সংসদীয় কমিটি

মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করার জন্য মন্ত্রিসভার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বিয়ের বয়স না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে ২০ বছর করা হওয়া উচিত বলে কমিটির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

গতকাল সংসদ ভবনে বৈঠকে বাল্যবিবাহ নিয়ে আলোচনাকালে প্রভাবশালী কমিটির ১০ সদস্যের অধিকাংশই সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। কিন্তু কমিটি কোনও সুপারিশ করা থেকে বিরত থাকে। সংসদীয় কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে মো. মোজাম্মেল হোসেন, নাসরিন জাহান রত্না, মনোয়ারা বেগম এবং রীফাত আমিন উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির সভাপতি রেবেকা মমিন মেয়েদের শারীরিক বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আসক্তির বিষয় তুলে ধরে বিয়ের বয়স কমানোর পক্ষে বক্তব্য রাখলে রীফাত আমিন প্রথম বিরোধিতা করেন।

বৈঠকে নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরে রীফাত আমিন বলেন, ‘মেয়েদের বিয়ের বয়স ২০ বছর হওয়া উচিত। ন্যূনতম ১৮ বছর। কিন্তু ১৬ গ্রহণযোগ্য নয়। কমিটির অন্য সদস্যরা তাকে সমর্থন করেছেন বলে জানান তিনি।

কমিটির সভাপতি রেবেকা মমিন বলেন, ‘কমিটির কয়েকজন সদস্য বিয়ের বয়স ১৬ বছর করার ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছেন এটা সত্যি। বেশিরভাগ সদস্যই ১৮ বছরের পক্ষে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করে সরকারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপর এ বিষয়ে আমরা সুপারিশ করব।’

তবে কমিটির অপর এক সদস্য মনোয়ারা বেগম সরকারের এ সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ বছর করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা গোপনে পালিয়ে বিয়ে করছে এবং এসব ঘটনায় অভিভাবকরা মামলা দায়ের করেন। ফলে প্রচুর মিথ্যা মামলা দায়ের হয়। তাই এটা ১৬ বছর হওয়া উচিত।’

জুলাইয়ে লন্ডনে অনুষ্ঠিত গার্লস সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাল্যবিবাহের হার ৬৬ শতাংশ থেকে কমানোর অঙ্গীকার করেছেন।

দেশে মা ও শিশু মৃত্যুর পেছনে অন্যতম কারণ বাল্যবিবাহ। সহস্রাব্ধ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে আছে এটি।
সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করা মন্ত্রণালয়ের জন্য আবশ্যক নয়। কিন্তু গঠনমূলক সুপারিশ কার্যনির্বাহীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।

সৌজন্যে : বাংলা ট্রিবিউন


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...