সারা বাংলা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটু সুনজর দিন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
জাতিরজনক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে আপনাকে সালাম জানাই। আমার একটি আবেদনের (জিইপি নং-৪৮১ তাং-১৫ এপ্রিল, জিইপি নং-৩০৩ তাং : ৬ এপ্রিল, জিইপি নং-৪৬৩ তাং : ২৭ এপ্রিল, জিইপি নং-২২৪ তাং : ৩১ আগস্ট এবং সর্বশেষ রেজিস্ট্রি নং-৭ সেপ্টেম্বর) ক্রমান্বয়ে পাচঁবার সকল তথ্যের ফটোকপি ডাকযোগে এবং ই-মেইলের মাধ্যমে আপনার বরাবরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি এ বিষয়ে আপনার মন্ত্রণালয়ের কোন কর্তা-ব্যক্তির পক্ষ থেকে আমি প্রাপ্তি স্বীকারের তথ্য পাইনি। বিষয়টি সম্পর্কে আপনি অবগত হয়েছেন কিনা তাও জানি না।

আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে অন্য কোন উপায় না পেয়ে সর্বশেষ আপনার দ্বারস্থ হয়েছি ন্যায়বিচার প্রাপ্তির আশায়। আমার বাবার চলমান মামলার নিষ্পত্তি এবং অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়ে যারা এতদিন ভূ-সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছে, তাদের উচ্ছেদের ব্যাপারে আপনার নির্দেশ দানে সহযোগীতা পাবো বলে আশা করছি। মহামান্য হাইকোর্টে আবেদিত সিভিল রিভিশন নং-২০৭৫/২০০৫ তাং-১১/০৬/০৫ইং (বাদী : শ্রী গোপাল চন্দ্র দাশ এবং বিবাদী : বাদল চন্দ্র দে গং) মামলা ন্যায়বিচারের সাথে নিষ্পত্তির জন্য আমার বাবা প্রায় ৪৭ বছর ধরে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। মামলার ঘানি টানতে টানতে প্রায় বিশ লক্ষ টাকা খরচ করে ঋণের বোঝা নিয়ে তিনি পাগল প্রায়। উপার্জনের প্রায় সব কষ্টার্জিত অর্থ তিনি মামলার পেছনেই ব্যয় করে ফেলেছেন। আমার পক্ষেও এই মামলা চালানো সম্ভবপর হবে না, যদি আপনি আমার আবেদনে সাড়া না দেন। প্রয়োজনে আমার বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে আপনার দরবারে হাজির হয়ে সমস্ত ঘটনার বিবরণ তুলে ধরবো, যদি আপনি দেখা করার সুযোগ দান করেন।

মাননীয় জননেত্রী,
আমার মা সুচিকিrসা ও পথ্য সেবার অভাবে অকালে মারা যান। আমরা এক ভাই ও এক বোনকে বাবা ঠিকমতো পড়ালেখা পর্যন্ত চালিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমার বাবা আইন-আদালত, থানা পুলিশে কখনো নিজেকে জড়াতে চাননি। কিন্তু বাস্তবতার নির্মম পরিহাস, তা না চাইলেও এখন বিষয়টি আমাকেই দেখভাল করতে হচ্ছে। সব কূল হারিয়ে একটু আশ্রয় লাভের আশায় আপনার সমীপে আমার এই প্রার্থনাটুকু পৌঁছুবে কিনা জানি না। আপনার সুদৃষ্টি পেলে আমাদের ভাগ্যে জুটবে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি, আমরা পারবো অবৈধ ভোগ দখলকারীদের আইনের সহায়তা নিয়ে উচ্ছেদ করতে। জানি না আমার বাবার আদর্শিক স্বপ্নের সলতে কতটুকু জ্বলবে। তবে এইুটুকু বিশ্বাস যে আপনি অসহায়ের শেষ ঠিকানা, শেষ ভরসা, শেষ আশ্রয়।

সংক্ষেপে আপনার সমীপে এ বিষয়ে আমার আবেদন উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি। আমার বাবার সরলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যারা সম্পত্তি দখল করে রেখেছে তাদেরকে আইনের মাধ্যমে উচ্ছেদের জন্য যেসব মামলা নিরপেক্ষ ও ন্যায় বিচারের সাথে নিষ্পত্তি হয়েছে সেসকল রায়-ডিক্রির কপি পটিয়া ও চট্টগ্রাম আদালত থেকে একেবারে গায়েব করে রেকর্ডরুম থেকে এর আলামত পর্যন্ত নষ্ট করতেও সক্ষম সফল হয়েছে প্রতিপক্ষ। আমার বাবা যাদের আশ্রয় দিল তাদের কারণে আমরা আজ গৃহহীন, অন্যের বাড়ীতে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। খাল কেটে কুমীর আনা প্রবাদ বাক্যটি সত্য হল আমার বাবার সরলতা ও উদরতার মানবিক কারণে আর এর বিনিময়ে চরম মূল্য দিতে হল তাকে। মানুষ মানুষের জন্য তাই বলে উপকারের বদলে এমন চরম মূল্য দিতে হবে তা আমার পিতা নিশ্চই ভাবেন নি।

মাননীয় গনতন্ত্রের মানসকন্যা,
বর্তমান মামলার বিবাদী মৃত বাদল চন্দ্র দে গং (পুত্র পলাশ চন্দ্র দে) এই মামলার পরিচালনা করতে বিভিন্ন বাধা বিপত্তি এবং চাপ প্রয়োগ করে আসছে। এই মামলা যাতে আমার বাবা পরিচালনা না করে সেজন্য প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে যাচ্ছে। আমার পিতার মামলা পরিচালনা করতে করতে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে এই ধারণা জন্মেছে যে, একজন সr নীতিবান ধার্মিক ব্যক্তি ন্যায়বিচার পেতে পারেন, যদি তার ক্ষমতা ও টাকা দুটোই থাকে। আর না হলে কেবল নির্যাতিত, নিপীড়িত ও পথের ফকির হয়ে সর্বসান্ত হওয়া ছাড়া গতি থাকবে না। মৃত বাদল চন্দ্র দে (তr পুত্র পলাশ দে), অজিত কুমার দে, বাবুল চন্দ দে ও মৃদুল চন্দ্র দে গং আজীবনই পরিচালিত সমস্ত মামলার ন্যায়বিচারে অর্থ ও পেশী শক্তিতে বাধা দানের কার্যকলাপ সম্পন্ন করে এসেছে। বর্তমানে আইনের নিজস্ব গতির পথ রুদ্ধ করে রেখেছে তারা। একজন অসহায় বৃদ্ধ বাবার সন্তান হিসেবে আমি এর সুষ্ঠু ন্যায়বিচার এবং অবৈধ ভোগদখলকারীদের উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দানের জন্য বিনীতভাবে প্রার্থনা করছি।

অতএব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমার প্রার্থনা ও প্রত্যাশা, এই মামলা ন্যায় বিচারের সহিত নিষ্পত্তি এবং ভোগ-দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে আপনার আন্তরিক সহযোগীতা কামনা করছি। আপনার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ছাড়া মামলার ন্যায়বিচার ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্ভব নয়। এই মামলা নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দান করলে আপনার নিকট আজীবন আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

বিনীত নিবেদক,
শোভন দাশ,
(পিতা : গোপাল চন্দ্র দাশ) বাগদন্ডী, ধলঘাট, পটিয়া, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
মুঠোফোন : ০১৭৮৯-৯৯৭৭০০

মেইল: [email protected]


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...