যুগী সম্প্রদায়ের দুর্দিন

যুগীপাড়া বলেখ্যাত আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের তালতা গ্রামের যুগী পল্লীতে গতকাল রবিবার দুপুরে গিয়ে ওই পল্লীর বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে এ পল্লীতে প্রায় অর্ধশত পরিবার বাপ-দাদার যুগী পেশাকে আকঁরে আছেন। এছাড়াও উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আরও অর্ধশত পরিবার এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন। এরা সবাই চুন তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। যুগী পাড়ার বাসিন্দা সিদ্ধেশ্বর হালদার জানান, বর্তমানে অর্থ ও কাঁচামালের অভাবে চুন তৈরি করতে না পেরে তাদের যুগী পল্লীর প্রত্যেকটি পরিবার স্ত্রী, পরিজন নিয়ে অর্থাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেক পরিবার অর্থাভাবে তাদের ছেলে- মেয়েদের পড়াশুনা বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ওই পাড়ার অপর বাসিন্দা বিবেক হালদার জানান, একসময় আগৈলঝাড়াসহ গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নদী-নালা, খাল-বিলে ও পুকুরে প্রচুর পরিমানে শামুক ও ঝিনুক পাওয়া যেতো। ওইসবস্থান থেকে শামুক সংগ্রহ করে চুন তৈরি করা হতো। এখন আর সেই আগের মতো শামুক ও ঝিনুক পাওয়া যায় না। তিনি আরো জানান, ৪০ কেজি শামুকের টোকরা পোড়াতে দেড় মন জ্বালানী কাঠ (লাকড়ি) প্রয়োজন। এ পোড়া শামুক একটি পাঁকা করা গর্তে রেখে বাঁেশর ও কাঠের গাইনের সাহায্যে চুর্ণ করে পরিমান মতো পানি দিয়ে চুন তৈরি করা হয়। এক মন চুন তৈরি করতে দু’জন শ্রমিকের ৬ ঘন্টা সময় লাগে। প্রতিমন চুন বিক্রি করলে তাদের লাভ হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বর্তমানে বিভিন্ন মৎস্য ঘেরে শামুক নেয়ায় যুগীদের শামুক সংকটে পরতে হয়। যা পাওয়া যায় তাও চড়ামূল্যে ক্রয় করতে হয় বলেও তিনি জানান।
যুগীপাড়ার বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, ৩ কেজি শামুক পোড়ালে ১ কেজি গুড়া চুন ও পানি চুন করা হলে ৫ কেজি হয়। এক কেজি গুড়া চুন ২০ টাকায় ও পানি চুন ১০ টাকায় বিক্রি করা হয়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, চুন তৈরি কইরা এ্যাহন আর মোগো সোংসার চলে না। মোগো পাড়ার অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছাইরা অন্য কাম (কাজ) করছে। আগে মোগো বিভিন্ন এনজিও থেইক্কা লোন (ঋণ) দেতো। পেশা স্থায়ীত্ব না থাহায় এ্যাহন আর মোগো কোন এনজিও লোন দ্যায়না। তিনি আরো জানান, আগে যত্রতত্র স্থানেও শামুক পাওয়া যেত। আর এখন প্রতিবস্তা শামুক ৪ থেকে সাড়ে ৪ ’শ টাকায় ক্রয় করতে হয়। চড়ামূল্য থাকা সত্বেও অর্থাভাবে তারা শামুক ও ঝিনুকের টোকরা ক্রয় করতে না পারায় চুন তৈরি করতে পারছেন না। তাই যুগী পল্লীর বাসিন্দারা তাদের এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য সরকারি সহযোগীতা কামনা করেছেন।