বন্ধ হয়ে গেছে মেধাবী মুক্তা ও মঞ্জুর পড়াশুনা
গৌরনদী ॥ ইভটিজিং কিংবা বখাটেদের উত্যক্তর কারনে নয়। একমাত্র আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে মেধাবী দু’বোন মুক্তা ও মঞ্জু গাইনের পড়াশুনা। আর্থিক সংকটে গত দু’মাস ধরে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বি.কম (অনার্স) প্রথমবর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে অধ্যায়নরত মুক্তা গাইন। মঞ্জু এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও আর্থিক সংকটে তার কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। সমাজের মহানুভব সমাজপতি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সঠিক পৃষ্টপোষকতা পেলে দারিদ্র পরিবারের কন্যা মেধাবী মুক্তা ও মঞ্জু উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রতœপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রাম। ওই গ্রামের রোগাক্রান্ত দিনমজুর নরেন্দ্র নাথ গাইন ও গৃহিনী মায়া রানী গাইনের তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের মধ্যে মুক্তা হচ্ছে সবার বড়। দিনমজুরের টাকায় চলছে নরেন্দ্র নাথ গাইনের ৬ সদস্যর পরিবার। তার বড় কন্যা মুক্তা গাইন বি.কম (অনার্স) প্রথমবর্ষের ম্যানেজমেন্টে বিভাগে অধ্যায়নরত, মেঝ মেয়ে মুক্তা গাইন এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বানিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত, ছেলে বিশ্বজিত গাইন ষষ্ট ও ছোট মেয়ে মালা গাইন তৃতীয় শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। সংসার ও ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করাতে গিয়ে দিনমজুর নরেন্দ্র নাথ গাইন বসত ঘরটি পর্যন্ত তুলতে পারেননি। একটি খুঁপরি ঘরের মধ্যেই তাদের বসবাস।
২০০৬ সালে মুক্তা আগৈলঝাড়ার বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বানিজ্য বিভাগে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি ও চরম আর্থিক সংকটের মাঝে জল্লা ইউনিয়ন আইডিয়াল কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এইচ.এস.সি পাশ করে। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার আশায় বিলাঞ্চলের স্কুল পড়–য়া কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পরিয়ে অর্থ উপার্জন করে মুক্তা বরিশাল বজ্রমোহন (বি.এম) বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বি.কম (অনার্স) ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তি হয়। এরইমধ্যে তার (নরেন্দ্র নাথের) মেঝ মেয়ে মুক্তা গাইন এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হন। দারিদ্র পরিবারের কন্যা মেধাবী মুক্তা ও মঞ্জু গাইন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায়।
বরিশাল বি.এম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বি.কম (অনার্স) ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মুক্তা গাইন বলেন, আমার দিনমজুর বাবা পরের জমিতে কামলা (দিনমজুরের কাজ) করতে করতে এখন নানারোগে আক্রান্ত হয়ে পরেছেন। অর্থাভাবে বাবা চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারছেন না। এমনই অবস্থায় সংসারের অবস্থা আরো বেহাল হয়ে পরেছে। তাই উচ্চ শিক্ষার আশা ছেড়ে দিয়ে গত দু’মাস থেকে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। সে আরো বলেন, সংসারের এমনই এক বেহাল অবস্থায় একমাত্র আর্থিক সংকটের কারনে মুক্তার কলেজে ভর্তি হওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।
গৃহিনী মায়া রানী গাইন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, শত কষ্টের মাঝে কতো দিন যে মোর মাইয়ারা না খাইয়া স্কুলে গ্যাছে। কতো রাইতে (রাতে) যে কেরোসিনের অভাবে ওরা ল্যাহা পড়া করতে পারেনায়, হেইয়ার কোন হিসাব নাই। কোনদিন অগো ভালো কিছু খাওয়াইতে পারিনায়। হক্কল বাড়ির পোলা মাইয়ারা চেয়ার-টেবিলে বইয়া ল্যাহা পড়া করে। চেয়ার-টেবিলের অভাবে মোর মায়েরা (কন্যারা) কোনদিন চেয়ার-টেবিলে বইয়া ল্যাহা পড়া করতে পারেনায়। অগো বড় আশা লেহাপড়া কইরা বড় হওয়ার। অগো হে আশা ভগবান বুঝি কোনদিন পূর্ণ করবো না।
সমাজের মহানুভব সমাজপতি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সঠিক পৃষ্টপোষকতা পেলে দারিদ্র পরিবারের কন্যা মেধাবী মুক্তা ও মঞ্জু গাইন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দারিদ্র পিতা-মাতার মুখে একদিন হয়তো হাসি ফোঁটাতে পারবে।